বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সুমন সিকদার (৩৮) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সুমন সিকদার উপজেলার ৭ নম্বর কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী গ্রামের মৃত আদম আলী সিকদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালেরকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।
পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় মনা তালুকদারের সঙ্গে সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও মনা তালুকদারকে একসঙ্গে দেখতে পান—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, উক্ত পরকীয়ার জের ধরে বাড়ির সামনে সুমনের সঙ্গে রিগ্যানের তর্কাতর্কি ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে রিগ্যান ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সুমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্যে রিগ্যান হাওলাদার, মনা তালুকদার, সেজান হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ওরফে ‘চোরা রুবেল’, সুমন সিকদার এবং তামিম তালুকদারের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হলেও, এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের ছেলে তানভীর সিকদার ও স্থানীয়দের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মনা তালুকদারের সঙ্গে সুমনের পরিবারের পূর্ববিরোধ ছিল। কয়েকদিন আগে মনা তালুকদার সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী মনি বেগমকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই বিরোধের সৃষ্টি হয় বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত রিগ্যান হাওলাদার এবং নিহত সুমন সিকদার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের তদন্ত চলছে
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি পূর্ববিরোধ ও তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মোঃ আরিফুর রহমান সোহাগ 


















