০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার স্ত্রী আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না -বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি

নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। তাই অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তিনি বারবার ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত সাম্প্রতিক ছবি ‘হক’-এ তাঁর অভিনয় আবারও সেই ধারারই প্রমাণ। এই ছবি, ফিটনেস, চরিত্র নির্বাচন এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবন—সবকিছু নিয়েই সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইমরান।

মুম্বাইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি। বয়স ৪৬ হলেও ইমরানের ফিটনেস এখনো চোখে পড়ার মতো। ফিট থাকার রহস্য জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কোনো রহস্য নেই। আমার স্ত্রী আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না।’ এরপর গম্ভীর হয়ে যোগ করেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই আসল চাবিকাঠি। করোনা সময়ের কথাও টেনে এনে তিনি বলেন, ‘অনেকে তখন যা খুশি খেয়েছে, আমি বরং ফিটনেসে মন দিয়েছিলাম। এখন তার সুফল পাচ্ছি।’

ইয়ামি গৌতমের সঙ্গে অভিনীত ‘হক’ ছবিটি ১৯৮০ সালের আলোচিত শাজিয়া বানো মামলা থেকে অনুপ্রাণিত। বাস্তব ঘটনার ছায়া থাকায় দায়িত্ববোধ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই মনে করেন ইমরান। তাঁর ভাষায়, ‘সংবেদনশীল বিষয় হলে আরও বেশি সতর্ক হতে হয়। যাঁদের জীবনের ঘটনা থেকে গল্প এসেছে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান রাখতে হয়।’ তিনি জানান, ছবিটির জন্য বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে, যাতে বাস্তব কাহিনি বিকৃত না হয়।

ইদানীং ইমরানকে ধূসর চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজে কোনো চরিত্রকে নেতিবাচক বা ধূসর হিসেবে দেখতে চান না। বলেন, ‘চরিত্রকে বিচার করতে শুরু করলে অভিনয়েও পক্ষপাত চলে আসে।’ ‘হক’ ছবিতে তাঁর চরিত্র আব্বাস খান—শাজিয়া বানোর স্বামী। ইমরানের মতে, আব্বাস নিজের বিশ্বাস ও যুক্তির জায়গা থেকেই লড়াই করেছে। দর্শকের চোখে সে ভুল হতে পারে, কিন্তু চরিত্রটির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। এখানেই গল্পের আসল শক্তি।

চরিত্র প্রস্তুতির প্রসঙ্গে ইমরান জানান, প্রথমে তিনি পরিচালক ও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন। একজন আইনজীবীর চরিত্র হওয়ায় আদালতের নিয়মকানুন, সংলাপের ভাষা—সবকিছু নিয়েই গবেষণা করেছেন। পরিচালক সুপর্ণ ভার্মার নির্দেশনায় অতিনাটকীয়তা এড়িয়ে আদালতের মর্যাদা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।

একজন মুসলিম অভিনেতা হিসেবে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা কঠিন ছিল কি না—এই প্রশ্নে ইমরান স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ছবিটি কোনো সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে না। ‘আমরা বিচার করিনি, শুধু ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখিয়েছি,’ বলেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টিকে থাকার বিষয়ে ইমরানের স্পষ্ট মত—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করাই একমাত্র উপায়। তাই এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেছে কাজ করেন। বছরে এক বা দুইটির বেশি ছবি করেন না। তাঁর কথায়, ‘৫০টির বেশি ছবির পর নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন, কিন্তু একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে চাই না।’

আরিয়ান খান পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’-এ তাঁর অভিনীত দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমিও অবাক হয়েছিলাম। এতটা ভাইরাল হবে ভাবিনি।’ সিরিজটির প্রশংসা করে তিনি আরিয়ান খানকে একজন পরিশ্রমী ও মেধাবী নির্মাতা হিসেবেই দেখেন।

সব মিলিয়ে, ইমরান হাশমির কাছে গল্পই আসল। ইমেজ ভাঙা, নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া আর নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করাই তাঁর অভিনয়জীবনের মূল দর্শন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আমার স্ত্রী আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না -বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি

Update Time : ০৯:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। তাই অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তিনি বারবার ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় নির্মিত সাম্প্রতিক ছবি ‘হক’-এ তাঁর অভিনয় আবারও সেই ধারারই প্রমাণ। এই ছবি, ফিটনেস, চরিত্র নির্বাচন এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবন—সবকিছু নিয়েই সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইমরান।

মুম্বাইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকারে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি। বয়স ৪৬ হলেও ইমরানের ফিটনেস এখনো চোখে পড়ার মতো। ফিট থাকার রহস্য জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কোনো রহস্য নেই। আমার স্ত্রী আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না।’ এরপর গম্ভীর হয়ে যোগ করেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই আসল চাবিকাঠি। করোনা সময়ের কথাও টেনে এনে তিনি বলেন, ‘অনেকে তখন যা খুশি খেয়েছে, আমি বরং ফিটনেসে মন দিয়েছিলাম। এখন তার সুফল পাচ্ছি।’

ইয়ামি গৌতমের সঙ্গে অভিনীত ‘হক’ ছবিটি ১৯৮০ সালের আলোচিত শাজিয়া বানো মামলা থেকে অনুপ্রাণিত। বাস্তব ঘটনার ছায়া থাকায় দায়িত্ববোধ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই মনে করেন ইমরান। তাঁর ভাষায়, ‘সংবেদনশীল বিষয় হলে আরও বেশি সতর্ক হতে হয়। যাঁদের জীবনের ঘটনা থেকে গল্প এসেছে, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান রাখতে হয়।’ তিনি জানান, ছবিটির জন্য বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে, যাতে বাস্তব কাহিনি বিকৃত না হয়।

ইদানীং ইমরানকে ধূসর চরিত্রে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজে কোনো চরিত্রকে নেতিবাচক বা ধূসর হিসেবে দেখতে চান না। বলেন, ‘চরিত্রকে বিচার করতে শুরু করলে অভিনয়েও পক্ষপাত চলে আসে।’ ‘হক’ ছবিতে তাঁর চরিত্র আব্বাস খান—শাজিয়া বানোর স্বামী। ইমরানের মতে, আব্বাস নিজের বিশ্বাস ও যুক্তির জায়গা থেকেই লড়াই করেছে। দর্শকের চোখে সে ভুল হতে পারে, কিন্তু চরিত্রটির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। এখানেই গল্পের আসল শক্তি।

চরিত্র প্রস্তুতির প্রসঙ্গে ইমরান জানান, প্রথমে তিনি পরিচালক ও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন। একজন আইনজীবীর চরিত্র হওয়ায় আদালতের নিয়মকানুন, সংলাপের ভাষা—সবকিছু নিয়েই গবেষণা করেছেন। পরিচালক সুপর্ণ ভার্মার নির্দেশনায় অতিনাটকীয়তা এড়িয়ে আদালতের মর্যাদা বজায় রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য।

একজন মুসলিম অভিনেতা হিসেবে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা কঠিন ছিল কি না—এই প্রশ্নে ইমরান স্বীকার করেন, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, ছবিটি কোনো সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে না। ‘আমরা বিচার করিনি, শুধু ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখিয়েছি,’ বলেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টিকে থাকার বিষয়ে ইমরানের স্পষ্ট মত—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করাই একমাত্র উপায়। তাই এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেছে কাজ করেন। বছরে এক বা দুইটির বেশি ছবি করেন না। তাঁর কথায়, ‘৫০টির বেশি ছবির পর নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন, কিন্তু একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে চাই না।’

আরিয়ান খান পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’-এ তাঁর অভিনীত দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আমিও অবাক হয়েছিলাম। এতটা ভাইরাল হবে ভাবিনি।’ সিরিজটির প্রশংসা করে তিনি আরিয়ান খানকে একজন পরিশ্রমী ও মেধাবী নির্মাতা হিসেবেই দেখেন।

সব মিলিয়ে, ইমরান হাশমির কাছে গল্পই আসল। ইমেজ ভাঙা, নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া আর নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করাই তাঁর অভিনয়জীবনের মূল দর্শন।