২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালায় কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিধবা নারীর উপর নির্যাতন, বিচার পেতে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৯ Time View

Oplus_131072

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, স্বামী ইউছুপ আলী শেখের মৃত্যুর পরে রুপিয়া বেগম শিশু ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে মদনপুর গ্রামে স্বামীর ভিটায় বসবাস করেন। স্বামী না থাকায় তার শরীরে নজর পড়ে লম্পট আওছাফুরের। বিভিন্ন সময়ে সে কু-প্রস্তাব দেয়। এমনকি গভীর রাতে প্রায়ই সে বসত ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করত। তার অত্যাচার থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ঘরের বারান্দায় গ্রীল লাগাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি সে। এই নারীকে কাছে পেতে ও মেলামেশায় বাধ্য করতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। পাড়া প্রতবেশীদের মধ্যে কুৎসা রটিয়ে এলাকায় বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।

গত কয়েক দিন আগে তার উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্য এবং এই বিধবা নারী কে এলাকা ছাড়া করতে নিজের পুকুর থেকে বাঁলু বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আওছাফুর, তার ছেলে তাফিমুর ও আয়ুব আলী শেখের ছেলে সোহাগ শেখ কে সাথে নিয়ে হামলা চালায়। তাকে মাথার চুল ধরে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে। এসময় তার কিশোর পুত্র কাঠের চলা দিয়ে তাফিমুর কে আঘাত করলে সে আহত হয়। এঘটনায় আওছাফুর তালা থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঐদিন রুপিয়া বেগম কে আহত অবস্থায় তালা হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। এখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে ধূর্ত আওছাফুর রুপিয়া বেগমের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা কেটে যাতায়াত বিছিন্ন করে দেয়। পুলিশ প্রশাসন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আগেই রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, আওছাফুর একজন মামলাবাজ, প্রতারক ও দালাল। সে কারণে অকারণে মানুষের ক্ষতি করে। কথায় কথায় মানুষের নামে মামলা করে। তার খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।

ভূক্তভোগী রুপিয়া বেগম বলেন, স্বামী না থাকায় তার শরীরে নজর পড়ে লম্পট আওছাফুরের। বিভিন্ন সময়ে সে কু-প্রস্তাব দেয়। এমনকি গভীর রাতে প্রায়ই সে ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করত। তার অত্যাচার থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ঘরের বারান্দায় গ্রীল লাগাতে বাধ্য হয়েছি। আমাকে  এলাকা ছাড়া করতে আমার সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করতে পুকুর থেকে বাঁলু বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আওছাফুর, তার ছেলে তাফিমুর ও আয়ুব আলী শেখের ছেলে সোহাগ শেখ কে সাথে নিয়ে হামলা চালায়। আমার মাথার চুল ধরে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। তারা কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে। এসময় তার কিশোর পুত্র কাঠের চলা দিয়ে তাফিমুর কে আঘাত করলে সে আহত হয়। এঘটনায় আওছাফুর তালা থানায় মামলা দায়ের করেন। আমিও মামলা করেছি।

তিনি বলেন, সোহাগ শেখের মায়ের সাথে আওছাফুরের শারীরিক সম্পর্ক ছিলো। এই ঘটনা জানাজানি হলে আওছাফুরের স্ত্রী তার পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছিলো বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে আওছাফুর রহমান বলেন, আমার জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করতে দিব না তাই ড্রেন তৈরী করেছি। এই মহিলার চরিত্র খুবই খারাপ। সে বিভিন্ন লোকের সাথে খারাপ কাজ করে। তাকে এই গ্রামে থাকতে দেয়া যাবে না। গ্রামের সব মানুষ এই মহিলার বিপক্ষে। এই মহিলা কে কু-প্রস্তাব দেয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি এবং লিঙ্গ কাঁটার কথা এড়িয়ে যান।

Tag :
About Author Information

Super Super

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ি বিধ্বস্ত- খোলা আকাশের নিচে পরিবার

তালায় কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিধবা নারীর উপর নির্যাতন, বিচার পেতে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে

Update Time : ১২:০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, স্বামী ইউছুপ আলী শেখের মৃত্যুর পরে রুপিয়া বেগম শিশু ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে মদনপুর গ্রামে স্বামীর ভিটায় বসবাস করেন। স্বামী না থাকায় তার শরীরে নজর পড়ে লম্পট আওছাফুরের। বিভিন্ন সময়ে সে কু-প্রস্তাব দেয়। এমনকি গভীর রাতে প্রায়ই সে বসত ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করত। তার অত্যাচার থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ঘরের বারান্দায় গ্রীল লাগাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি সে। এই নারীকে কাছে পেতে ও মেলামেশায় বাধ্য করতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। পাড়া প্রতবেশীদের মধ্যে কুৎসা রটিয়ে এলাকায় বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।

গত কয়েক দিন আগে তার উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্য এবং এই বিধবা নারী কে এলাকা ছাড়া করতে নিজের পুকুর থেকে বাঁলু বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আওছাফুর, তার ছেলে তাফিমুর ও আয়ুব আলী শেখের ছেলে সোহাগ শেখ কে সাথে নিয়ে হামলা চালায়। তাকে মাথার চুল ধরে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে। এসময় তার কিশোর পুত্র কাঠের চলা দিয়ে তাফিমুর কে আঘাত করলে সে আহত হয়। এঘটনায় আওছাফুর তালা থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঐদিন রুপিয়া বেগম কে আহত অবস্থায় তালা হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। এখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে ধূর্ত আওছাফুর রুপিয়া বেগমের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা কেটে যাতায়াত বিছিন্ন করে দেয়। পুলিশ প্রশাসন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আগেই রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, আওছাফুর একজন মামলাবাজ, প্রতারক ও দালাল। সে কারণে অকারণে মানুষের ক্ষতি করে। কথায় কথায় মানুষের নামে মামলা করে। তার খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।

ভূক্তভোগী রুপিয়া বেগম বলেন, স্বামী না থাকায় তার শরীরে নজর পড়ে লম্পট আওছাফুরের। বিভিন্ন সময়ে সে কু-প্রস্তাব দেয়। এমনকি গভীর রাতে প্রায়ই সে ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করত। তার অত্যাচার থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ঘরের বারান্দায় গ্রীল লাগাতে বাধ্য হয়েছি। আমাকে  এলাকা ছাড়া করতে আমার সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করতে পুকুর থেকে বাঁলু বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আওছাফুর, তার ছেলে তাফিমুর ও আয়ুব আলী শেখের ছেলে সোহাগ শেখ কে সাথে নিয়ে হামলা চালায়। আমার মাথার চুল ধরে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে। তারা কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে বিবস্ত্র করে ফেলে। এসময় তার কিশোর পুত্র কাঠের চলা দিয়ে তাফিমুর কে আঘাত করলে সে আহত হয়। এঘটনায় আওছাফুর তালা থানায় মামলা দায়ের করেন। আমিও মামলা করেছি।

তিনি বলেন, সোহাগ শেখের মায়ের সাথে আওছাফুরের শারীরিক সম্পর্ক ছিলো। এই ঘটনা জানাজানি হলে আওছাফুরের স্ত্রী তার পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছিলো বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে আওছাফুর রহমান বলেন, আমার জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করতে দিব না তাই ড্রেন তৈরী করেছি। এই মহিলার চরিত্র খুবই খারাপ। সে বিভিন্ন লোকের সাথে খারাপ কাজ করে। তাকে এই গ্রামে থাকতে দেয়া যাবে না। গ্রামের সব মানুষ এই মহিলার বিপক্ষে। এই মহিলা কে কু-প্রস্তাব দেয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি এবং লিঙ্গ কাঁটার কথা এড়িয়ে যান।