ঐতিহ্যবাহী দুধল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত ৮২তম বাৎসরিক আজিমুশ্বান মাহফিল আজ আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম কোরআন-হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি আলোচনা ও নসিহত পেশ করেন। মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বিরাজ করে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন শাহছূফী আলহাজ্ব আল্লামা হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ আব্দুশ শাকূর। তিনি ঈমান ও আমলের গুরুত্ব, আত্মশুদ্ধি, সুন্নাহর অনুসরণ এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও বয়ান পেশ করেন মুফতি হযরত মাওলানা শাহ মো. সফিউল্লাহ ও মুফতি হযরত মাওলানা শাহ মো. শরিয়াতুল্লাহ। তাঁরা বর্তমান সময়ের ফিতনা-ফাসাদ থেকে বাঁচতে কোরআন-সুন্নাহর ওপর দৃঢ়ভাবে চলার আহ্বান জানান এবং যুবসমাজকে দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও আলোচনা করেন আল্লামা মুফতি হযরত মাওলানা শাহ মো. তাজুল ইসলাম। তিনি দ্বীনি ইলম অর্জনের প্রয়োজনীয়তা, আলেমদের মর্যাদা এবং সমাজ সংস্কারে উলামায়ে কেরামের ভূমিকা তুলে ধরেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেমগণ পর্যায়ক্রমে বয়ান পেশ করেন।
মাহফিলের শেষ দিনে আজ অনুষ্ঠিত হবে আখেরী মোনাজাত, যা পরিচালনা করবেন আলহাজ্ব মুফতি হযরত মাওলানা শাহ মো. সাইফুল্লাহ। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, অসুস্থদের শিফা এবং বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মুসলমানদের মুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। আগত মুসল্লিদের জন্য অজু, নামাজ ও বসার সুব্যবস্থা করা হয়। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করে।
মাহফিল শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল উলামায়ে কেরাম, আগত মুসল্লি ও সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, এ ধরনের আজিমুশ্বান মাহফিল মানুষের ঈমানী চেতনা জাগ্রত করে এবং সমাজে শান্তি-সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এইচ এম রুহুল আমিন 




















