০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজান শুরুর আগেই বাজারে আগুন: এক হালি লেবুর দামে এক ডজন ডিম, ব্রয়লারের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

রাজধানী ঢাকার বাজারে রমজান শুরুর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভালো মানের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে ফার্মের মুরগির এক ডজন (১২টি) ডিম। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি:
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৬০ টাকার নিচে নেই। ভালো ও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ একটি লেবুর দাম পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রমজান শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা।

বিক্রেতাদের দাবি, মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে। ফলে দাম বেড়েছে।

ইফতারি উপকরণেও বাড়তি চাপ:
রমজানে ইফতার তৈরিতে ব্যবহৃত শসা, বেগুন, টমেটো, গাজরের দামও বেড়েছে।

বেগুন: কেজি ৮০-১২০ টাকা
শসা: কেজি ৮০-১০০ টাকা
টমেটো ও গাজর: কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি
পেঁয়াজ: ৫৫-৬০ টাকা (কেজিতে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি)
কাঁচা মরিচ: ১৪০-১৬০ টাকা (কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি)

গত বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি।

ব্রয়লার ২০০ ছাড়াল, সোনালি ৩৫০:
রমজান শুরুর আগেই ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০-২২০ টাকায় উঠেছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩২০-৩৫০ টাকা।

তবে ডিমের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। এক ডজন ফার্মের ডিম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, শীতকালীন মৃত্যুহার এবং রমজানে বাড়তি চাহিদা—এই তিন কারণে দাম বেড়েছে।

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি:
চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলার দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে।

তেলাপিয়া: ২২০-২৫০ টাকা
মাঝারি রুই/কাতলা: ৪০০ টাকার নিচে নয়

রমজান শুরুর আগেই মাছ-মুরগির এমন দামবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ চাপে পড়েছেন।

ফলের বাজারও চড়া:
রোজায় চাহিদাসম্পন্ন ফলের দামও বেড়েছে।

মাল্টা: ৩১০-৩৪০ টাকা
আপেল: ৩৩০-৪০০ টাকা
কলা: ডজনে ৩০-৬০ টাকা বৃদ্ধি
পেঁপে, পেয়ারা, বরই: কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেশি

দুই সপ্তাহ আগে মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা কম ছিল।

চাল-তেলে চাপ:
ছোলা, অ্যাংকর ডাল ও চিনি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কথাও জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

ভোক্তার ক্ষোভ:
ঢাকার একজন পোশাক কারখানার কর্মী বলেন, “রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, সবগুলোর দাম বেড়েছে। যেখানে দাম কমার কথা, সেখানে উল্টো বেড়েছে—এটা অস্বাভাবিক।”

রমজানের শুরুতেই বাজারে এমন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহ পর কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। তবে আপাতত রমজানের প্রথম দিকে বাজারে স্বস্তির কোনো আভাস নেই।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রমজান শুরুর আগেই বাজারে আগুন: এক হালি লেবুর দামে এক ডজন ডিম, ব্রয়লারের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

Update Time : ০৯:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানী ঢাকার বাজারে রমজান শুরুর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভালো মানের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে ফার্মের মুরগির এক ডজন (১২টি) ডিম। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি:
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৬০ টাকার নিচে নেই। ভালো ও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ একটি লেবুর দাম পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রমজান শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা।

বিক্রেতাদের দাবি, মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে। ফলে দাম বেড়েছে।

ইফতারি উপকরণেও বাড়তি চাপ:
রমজানে ইফতার তৈরিতে ব্যবহৃত শসা, বেগুন, টমেটো, গাজরের দামও বেড়েছে।

বেগুন: কেজি ৮০-১২০ টাকা
শসা: কেজি ৮০-১০০ টাকা
টমেটো ও গাজর: কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি
পেঁয়াজ: ৫৫-৬০ টাকা (কেজিতে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি)
কাঁচা মরিচ: ১৪০-১৬০ টাকা (কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি)

গত বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি।

ব্রয়লার ২০০ ছাড়াল, সোনালি ৩৫০:
রমজান শুরুর আগেই ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০-২২০ টাকায় উঠেছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩২০-৩৫০ টাকা।

তবে ডিমের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। এক ডজন ফার্মের ডিম ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, শীতকালীন মৃত্যুহার এবং রমজানে বাড়তি চাহিদা—এই তিন কারণে দাম বেড়েছে।

মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি:
চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলার দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে।

তেলাপিয়া: ২২০-২৫০ টাকা
মাঝারি রুই/কাতলা: ৪০০ টাকার নিচে নয়

রমজান শুরুর আগেই মাছ-মুরগির এমন দামবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ চাপে পড়েছেন।

ফলের বাজারও চড়া:
রোজায় চাহিদাসম্পন্ন ফলের দামও বেড়েছে।

মাল্টা: ৩১০-৩৪০ টাকা
আপেল: ৩৩০-৪০০ টাকা
কলা: ডজনে ৩০-৬০ টাকা বৃদ্ধি
পেঁপে, পেয়ারা, বরই: কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেশি

দুই সপ্তাহ আগে মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা কম ছিল।

চাল-তেলে চাপ:
ছোলা, অ্যাংকর ডাল ও চিনি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কথাও জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

ভোক্তার ক্ষোভ:
ঢাকার একজন পোশাক কারখানার কর্মী বলেন, “রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, সবগুলোর দাম বেড়েছে। যেখানে দাম কমার কথা, সেখানে উল্টো বেড়েছে—এটা অস্বাভাবিক।”

রমজানের শুরুতেই বাজারে এমন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহ পর কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। তবে আপাতত রমজানের প্রথম দিকে বাজারে স্বস্তির কোনো আভাস নেই।