৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে দেড় টন ওজনের মৃত তিমি

কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সৈকতে পড়ে আছে প্রায় দেড় টন ওজনের একটি মৃত তিমি। পাঁচ দিন আগে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় এর অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবী, পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, অতীতে কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা নেই। তিমিটি আঘাতে নাকি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, গত শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। এ সময় কৌতূহলী মানুষ তিমিটি দেখতে ভিড় করেন। অনেকে তিমির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরদিন রোববার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়। তিমিটির ওজন অন্তত দেড় টন হবে।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, জোয়ারের তীব্রতায় বালু সরে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে তিমির কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও বড় অংশ ভেসে ওঠে। তিমিটি পচে যাওয়ায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত তিমিটি দ্রুত আবার পুঁতে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে আছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। উপকূলীয় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মী প্যারাবন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও মৃত তিমির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। কী কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে তিমিটি বালুচরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেড় বছর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় তিন মেট্রিক টন ওজনের দুটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। তখন জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে তিমি দুটিকে পুঁতে ফেলা হয়। তবে কুতুবদিয়ায় খননযন্ত্র নেওয়া কঠিন। পাশাপাশি অর্থ ও জনবলের সংকটও রয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্গন্ধ থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিমিটি কেটে টুকরো করে গভীরভাবে পুঁতে ফেলা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ি বিধ্বস্ত- খোলা আকাশের নিচে পরিবার

কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে দেড় টন ওজনের মৃত তিমি

Update Time : ০৯:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সৈকতে পড়ে আছে প্রায় দেড় টন ওজনের একটি মৃত তিমি। পাঁচ দিন আগে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরে যাওয়ায় এর অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবী, পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, অতীতে কুতুবদিয়ার উপকূলে এত বড় মৃত তিমি ভেসে আসার ঘটনা নেই। তিমিটি আঘাতে নাকি বিষক্রিয়ায় মারা গেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, গত শনিবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। এ সময় কৌতূহলী মানুষ তিমিটি দেখতে ভিড় করেন। অনেকে তিমির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরদিন রোববার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে বালুচরে গর্ত খুঁড়ে তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়। তিমিটির ওজন অন্তত দেড় টন হবে।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, জোয়ারের তীব্রতায় বালু সরে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে তিমির কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও বড় অংশ ভেসে ওঠে। তিমিটি পচে যাওয়ায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত তিমিটি দ্রুত আবার পুঁতে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে আছেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বন বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। উপকূলীয় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মী প্যারাবন রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও মৃত তিমির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। কী কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে তিমিটি বালুচরে পুঁতে ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেড় বছর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় তিন মেট্রিক টন ওজনের দুটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। তখন জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে তিমি দুটিকে পুঁতে ফেলা হয়। তবে কুতুবদিয়ায় খননযন্ত্র নেওয়া কঠিন। পাশাপাশি অর্থ ও জনবলের সংকটও রয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্গন্ধ থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিমিটি কেটে টুকরো করে গভীরভাবে পুঁতে ফেলা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।