৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কৃষক-শ্রমিক জনতার নেতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা শেরে বাংলার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কৃষকবান্ধব নেতৃত্ব, শিক্ষা বিস্তার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষকের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ফজলুল হক কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখেন।

শেরে বাংলা শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নেতা। তাঁর সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং আলোচনা সভা।

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে বসতবাড়ি বিধ্বস্ত- খোলা আকাশের নিচে পরিবার

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ১২:৩২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কৃষক-শ্রমিক জনতার নেতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা শেরে বাংলার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কৃষকবান্ধব নেতৃত্ব, শিক্ষা বিস্তার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলার রাজনীতি কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষকের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ফজলুল হক কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখেন।

শেরে বাংলা শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নেতা। তাঁর সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং আলোচনা সভা।

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়রসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।