২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ অবহেলায় বেহাল পাদ্রীশিবপুরের কানকি সড়ক, বর্ষায় বিচ্ছিন্ন পাঁচ গ্রামের জনজীবন

বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি বাজার থেকে এমপি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। টানা বর্ষণে সড়কটি এখন কাদামাটির স্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে হাঁটুসমান কাদা ও পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারী কাদায় পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এম এ মালেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাদ্রীশিবপুর পারসিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচ থেকে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। অনেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম ও বইপত্র নষ্ট হওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে না পারায় রোগীদের বিকল্প উপায়ে বহন করতে হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও বাড়তি খরচ ও সময় লাগছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, কানকি বাজার থেকে এমপি বাজার পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে টেকসইভাবে পাকা করা হোক। তাদের মতে, এই সড়ক উন্নয়ন হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বিশ্বকাপ জিততে ভারতকে মাঠের বাউন্ডারি বড় করার পরামর্শ

দীর্ঘ অবহেলায় বেহাল পাদ্রীশিবপুরের কানকি সড়ক, বর্ষায় বিচ্ছিন্ন পাঁচ গ্রামের জনজীবন

Update Time : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি বাজার থেকে এমপি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। টানা বর্ষণে সড়কটি এখন কাদামাটির স্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে হাঁটুসমান কাদা ও পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারী কাদায় পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এম এ মালেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাদ্রীশিবপুর পারসিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পাঁচ থেকে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। অনেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্ম ও বইপত্র নষ্ট হওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে না পারায় রোগীদের বিকল্প উপায়ে বহন করতে হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও বাড়তি খরচ ও সময় লাগছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, কানকি বাজার থেকে এমপি বাজার পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে টেকসইভাবে পাকা করা হোক। তাদের মতে, এই সড়ক উন্নয়ন হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।