বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী এলাকায় পাণ্ডব নদীর তীরে একটি মৃত শুশুক ভেসে আসার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় নদীর তীরে প্রাণীটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে তারা সেটিকে নদী থেকে তুলে রাস্তার পাশে রাখেন।
খবরটি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিরল এই জলজ প্রাণীটি একনজর দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে গর্বের বাকেরগঞ্জ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. বায়জিদ আলম জানান, ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে এটি একটি শুশুক (দক্ষিণ এশিয়ার মিঠাপানির ডলফিন) বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় এ প্রাণীটি নদীর ডলফিন নামেও পরিচিত।
তিনি বলেন, প্রাণীটির লম্বা ও সরু ঠোঁট, ধূসর বর্ণের মসৃণ দেহ, ছোট ত্রিভুজাকৃতির পাখনা এবং ডলফিনজাতীয় শারীরিক গঠন শুশুকের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুশুক সাধারণত বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তেতুলিয়া এবং এসব নদীর শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করে। এরা মানুষকে আক্রমণ করে না; মূলত মাছ খেয়েই জীবনধারণ করে।
তিনি আরও জানান, প্রাণীটি ইরাবতী ডলফিন (Irrawaddy Dolphin) অথবা গাঙ্গেয় শুশুক (Ganges River Dolphin)—এই দুই প্রজাতির একটির হতে পারে। তবে ছবিতে এর লম্বা ও সরু ঠোঁট স্পষ্ট হওয়ায় এটি গাঙ্গেয় শুশুক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ ধরার জালে আটকে শ্বাসরোধ, নৌযানের আঘাত কিংবা নদীদূষণের কারণে এ ধরনের শুশুকের মৃত্যু ঘটে থাকে। তবে প্রাণীটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, বিরল এই জলজ প্রাণীটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মোঃ শাহিন মিরা 



















