ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নিলেও নিজেদের আদালতের রায় বহাল রাখতে সর্বাত্মক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবে না।
যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে দেশটির একাধিক আদালতে বিচারিকভাবে পর্যালোচিত ও বহাল রয়েছে। ফলে ইউরোপীয় আদালতের আগ্রহ থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন।
ইসিএইচআর সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে, শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সময় তৎকালীন মন্ত্রীরা তিনি মানবপাচার বা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন কি না এবং তাঁর প্রতি যুক্তরাজ্যের কোনো দায়বদ্ধতা আছে কি না—তা বিবেচনায় নিয়েছিলেন কি না। কারণ, শামীমা ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় (দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ) এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
শামীমা বেগম ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থান করেন এবং এক আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ২৬ বছর। সিরিয়ায় তিনি তিন সন্তানের জন্ম দিলেও কেউই বেঁচে নেই।
পরে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে শামীমার খোঁজ পাওয়া যায়। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে ২০১৯ সালে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলা হয়, তিনি বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক—ফলে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না।
এই রায়ের বিরুদ্ধে শামীমা একাধিকবার আপিল করেন। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে অস্বীকার করে। এর পরই ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
শামীমার আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স দাবি করেছেন, ১৫ বছর বয়সে শামীমা মানবপাচার ও যৌন শোষণের ঝুঁকিতে ছিলেন এবং প্রলুব্ধ করে তাঁকে আইএস-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘একজন শিশুকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাস এখানে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ, তাঁর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু একই পথে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শামীমা উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন—এটি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল।’
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের সূত্র বলছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময়ই জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং দেশীয় আদালতগুলোতে বারবার তা যাচাই হয়ে বহাল রয়েছে।’
এ অবস্থায় ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের পর্যালোচনা শামীমা বেগমের মামলায় নতুন কোনো মোড় আনবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















