২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নেমেছে ৭.৫ ডিগ্রিতে

চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের প্রথম মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ছয়টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছিল। এ সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

হিম শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কম থাকায় শীত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গরম কাপড় পরেও অনেকের পক্ষে শীত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বরফশীতল বাতাস বইতে থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

পথচারী মঙ্গল মিয়া বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এই শীত ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ঘরের ভেতর ও বাইরে সমান শীত অনুভূত হচ্ছে।
ভ্যানচালক রশিদ মোল্লা জানান, একাধিক শীতের কাপড় পরেও শরীর গরম রাখা যাচ্ছে না। শরীরের কোনো অংশ খোলা থাকলেই তীব্র ঠান্ডা লাগছে। শীতের কারণে সকাল থেকে বের হলেও যাত্রী পাচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী আব্দুল হালিম বলেন, সকালে পানিতে হাত দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বরফের মতো ঠান্ডা পানিতে পড়াশোনার জন্য বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নেমেছে ৭.৫ ডিগ্রিতে

Update Time : ০৯:৪১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের প্রথম মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ছয়টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছিল। এ সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

হিম শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কম থাকায় শীত আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গরম কাপড় পরেও অনেকের পক্ষে শীত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বরফশীতল বাতাস বইতে থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

পথচারী মঙ্গল মিয়া বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এই শীত ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ঘরের ভেতর ও বাইরে সমান শীত অনুভূত হচ্ছে।
ভ্যানচালক রশিদ মোল্লা জানান, একাধিক শীতের কাপড় পরেও শরীর গরম রাখা যাচ্ছে না। শরীরের কোনো অংশ খোলা থাকলেই তীব্র ঠান্ডা লাগছে। শীতের কারণে সকাল থেকে বের হলেও যাত্রী পাচ্ছেন না।

শিক্ষার্থী আব্দুল হালিম বলেন, সকালে পানিতে হাত দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বরফের মতো ঠান্ডা পানিতে পড়াশোনার জন্য বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।