২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য

বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ বা ‘রিং জাল’। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য জেলে এ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতি সূক্ষ্ম বুননের এ জালে বড় মাছের পাশাপাশি ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু, পোনা এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। শুধু মাছই নয়, ব্যাঙ, কুঁচে, জলজ সাপসহ বিভিন্ন উপকারী প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, যা জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে পোনা ও মা মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অনেক জলাশয় মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে স্থানীয় মৎস্যসম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উল্লেখ্য, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ‘চায়না দুয়ারি’ বা ‘রিং জাল’ ব্যবহার, উৎপাদন, পরিবহন, বিক্রয় ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করলেও, বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ জালের ব্যবহার এখনো প্রকাশ্যেই চলতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বরিশালের জেলা প্রশাসক, বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হোক।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বাকেরগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য

Update Time : ০১:৩৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ বা ‘রিং জাল’। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য জেলে এ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতি সূক্ষ্ম বুননের এ জালে বড় মাছের পাশাপাশি ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু, পোনা এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। শুধু মাছই নয়, ব্যাঙ, কুঁচে, জলজ সাপসহ বিভিন্ন উপকারী প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, যা জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে পোনা ও মা মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অনেক জলাশয় মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে স্থানীয় মৎস্যসম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উল্লেখ্য, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ‘চায়না দুয়ারি’ বা ‘রিং জাল’ ব্যবহার, উৎপাদন, পরিবহন, বিক্রয় ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করলেও, বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ জালের ব্যবহার এখনো প্রকাশ্যেই চলতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বরিশালের জেলা প্রশাসক, বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হোক।