চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ১৫টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে বোর্ডের আওতাধীন তিন জেলার পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সার্বিক ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত করেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট এক হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১৫টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের মধ্যে বরিশাল জেলায় সাতটি, পিরোজপুরে তিনটি, বরগুনায় দুটি, ভোলায় দুটি এবং ঝালকাঠিতে একটি বিদ্যালয় রয়েছে। গত বছর এ বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১৭টি।
এবার বোর্ডের ৯৩৯টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ৫৫৬টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে পাঁচটি বিদ্যালয়ে পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়—অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
শতভাগ ফেল করা পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে বরিশাল জেলার দুটি, ঝালকাঠির দুটি এবং পিরোজপুর জেলার একটি বিদ্যালয় রয়েছে।
ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি জেলা সদরের সাউরাকাঠি নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। একই জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ছয়জন। দুই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এ ছাড়া পিরোজপুর জেলা সদরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আটজন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কেরামত গায়জাউদ্দীন নূরমোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে এই তিন বিদ্যালয়েরও কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হননি।
ফলাফলের এই চিত্র একদিকে যেমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্যকে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পাঁচটি বিদ্যালয়ের শূন্য পাসের হার শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।
মোঃ জুলহাস হোসেন 























