২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিফাতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সিফাতের সুচিকিৎসার দাবিতে বাকেরগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল-দপদপিয়া সেতুতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাকেরগঞ্জের কিশোর রিফাতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং গুরুতর আহত সিফাতের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরকারি কলেজের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত ৯ আগস্ট (রোববার) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্র আলফার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের কিশোর রিফাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত এবং রিফাতের ভাই সিফাত গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রিফাতের পরিবার ও গুরুতর আহত সিফাতের পরিবারের প্রতি যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদেই শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রাজপথে নামেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা নিহত রিফাতের পরিবারকে অনতিবিলম্বে বিআরটিসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, গুরুতর আহত সিফাতের সুচিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বিআরটিসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন এবং মহাসড়কে বিআরটিসি বাসের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা “নিরাপদ সড়ক চাই, জীবন বাঁচাতে চাই”, “যে গাড়ি মানুষ মারে, সেই গাড়ি চলবে না”, “তুমি কে? আমি কে? রিফাত, রিফাত!”—সহ বিভিন্ন স্লোগানে মহাসড়ক মুখরিত করে তোলেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে দুটি প্রাণ ঝরে গেছে। রিফাতের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং সিফাতের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ সময় ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

রিফাতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সিফাতের সুচিকিৎসার দাবিতে বাকেরগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ

Update Time : ০৮:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল-দপদপিয়া সেতুতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাকেরগঞ্জের কিশোর রিফাতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং গুরুতর আহত সিফাতের সুচিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরকারি কলেজের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত ৯ আগস্ট (রোববার) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্র আলফার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের কিশোর রিফাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত এবং রিফাতের ভাই সিফাত গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও রিফাতের পরিবার ও গুরুতর আহত সিফাতের পরিবারের প্রতি যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদেই শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী রাজপথে নামেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা নিহত রিফাতের পরিবারকে অনতিবিলম্বে বিআরটিসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, গুরুতর আহত সিফাতের সুচিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বিআরটিসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন এবং মহাসড়কে বিআরটিসি বাসের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা “নিরাপদ সড়ক চাই, জীবন বাঁচাতে চাই”, “যে গাড়ি মানুষ মারে, সেই গাড়ি চলবে না”, “তুমি কে? আমি কে? রিফাত, রিফাত!”—সহ বিভিন্ন স্লোগানে মহাসড়ক মুখরিত করে তোলেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে দুটি প্রাণ ঝরে গেছে। রিফাতের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং সিফাতের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ সময় ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।