২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কারকাজের ধীরগতিতে ভোগান্তির ফাঁদে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার তিন ওয়ার্ড

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে দুটি সড়কের পুরোনো কালভার্ট ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় তিনটি সড়কেই যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা এবং অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও চলমান কাজ শেষ না হলে বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সিটিসিআরপি প্রকল্পের প্যাকেজ-আরডি-২-এর আওতায় তিনটি সড়ক ও ছোট-বড় ছয়টি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বাবুল খান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ-পটুয়াখালী মহাসড়কের চৌমাথা থেকে বারাইপাড়া সড়কটি কালিগঞ্জ বাজার হয়ে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। চৌমাথা থেকে কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের দুই পাশে মাটির কাজ করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানিতে কোথাও কাদা, কোথাও গর্ত—ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সড়কের বারাইপাড়া মন্দিরসংলগ্ন খালের ওপর থাকা পুরোনো কালভার্টটি প্রায় দুই মাস আগে ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কালভার্ট নির্মাণের সময় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, রুহিতার পাড় সড়কেও দুই পাশে মাটির কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সড়কজুড়ে কাদামাটি ও ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে এ সড়কটিও মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বটতলা হয়ে তালুকদার বাড়ি সড়কের কিছু অংশে সংস্কারকাজ করা হলেও বাকি অংশ এখনো পড়ে রয়েছে। এ সড়কের একটি কালভার্টের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে তিনটি সড়কেই যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বাবুল খান বলেন, বর্ষার কারণে তিনটি সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কালভার্টের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। বর্ষা কমলেই সড়কের নির্মাণকাজও শুরু করা হবে।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারকে বিকল্প সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায় বর্ষাকালে তিন ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

সংস্কারকাজের ধীরগতিতে ভোগান্তির ফাঁদে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার তিন ওয়ার্ড

Update Time : ০৯:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে দুটি সড়কের পুরোনো কালভার্ট ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় তিনটি সড়কেই যান চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা এবং অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও চলমান কাজ শেষ না হলে বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সিটিসিআরপি প্রকল্পের প্যাকেজ-আরডি-২-এর আওতায় তিনটি সড়ক ও ছোট-বড় ছয়টি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বাবুল খান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ-পটুয়াখালী মহাসড়কের চৌমাথা থেকে বারাইপাড়া সড়কটি কালিগঞ্জ বাজার হয়ে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। চৌমাথা থেকে কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের দুই পাশে মাটির কাজ করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানিতে কোথাও কাদা, কোথাও গর্ত—ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সড়কের বারাইপাড়া মন্দিরসংলগ্ন খালের ওপর থাকা পুরোনো কালভার্টটি প্রায় দুই মাস আগে ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কালভার্ট নির্মাণের সময় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, রুহিতার পাড় সড়কেও দুই পাশে মাটির কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সড়কজুড়ে কাদামাটি ও ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে এ সড়কটিও মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বটতলা হয়ে তালুকদার বাড়ি সড়কের কিছু অংশে সংস্কারকাজ করা হলেও বাকি অংশ এখনো পড়ে রয়েছে। এ সড়কের একটি কালভার্টের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে তিনটি সড়কেই যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বাবুল খান বলেন, বর্ষার কারণে তিনটি সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কালভার্টের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। বর্ষা কমলেই সড়কের নির্মাণকাজও শুরু করা হবে।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারকে বিকল্প সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায় বর্ষাকালে তিন ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।