বাকেরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাকরধা অশ্বিনীকুমার মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশনের জমি দখল ও সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের জমিতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা পরিচালনা করছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, হানিফ তালুকদার, রুহুল ডাক্তার ও সালাম আমিনসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের জায়গায় কাকরধা মাহিম ক্লিনিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার মানিকের একটি দোকান স্থাপনের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ওই জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুরোধ করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। পরে বিদ্যালয়ের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়েছে বলে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিদ্যালয়ের জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, পর্চা, দলিল, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, কাকরধা অশ্বিনীকুমার মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর পরবর্তীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে ভূমিকা রেখে আসছে।
এমন একটি পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শুধু একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে না দেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের দাবি—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব নয়, সরকারি নথিপত্র ও আইন অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রকৃত জমি চিহ্নিত করে তা দখলমুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে সত্যিই হুমকির ঘটনা ঘটে থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও গ্রহণ করে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 























