২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর বাস রুট ৯৮ থেকে কমিয়ে ৩২’র পরিকল্পনা, প্রতি রুটে থাকবে এক কম্পানি

সড়কে যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা। আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা আর এক বাসকে আটকাতে অন্য বাসের চালকের রাস্তা অবরোধ রাজধানীর গণপরিবহনে এমন বিশৃঙ্খলা নিত্যদিনের ঘটনা।

এ পরিস্থিতি বদলাতে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে ৩২টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রুটে থাকবে একটি কোম্পানি, যার অধীনে পরিচালিত হবে সব বাস।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানান, সম্মিলিত উদ্যোগে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।

তবে পুরো ব্যবস্থাটি গতিশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আসতে পারে।

ডিটিসিএর দাবি, এর আগে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ সফল হয়নি। এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

এর একটি আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অন্য রুট হিসেবে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়ে আলোচনা চলছে।

উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক সমিতিও কাজ শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনার পর পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে কাজ চলছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মালিকরা।

ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ব্যাবসায়িক মডেল, মালিকদের লোকসান এড়ানোর নিশ্চয়তা এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া উদ্যোগটি সফল করা কঠিন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, মালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

রাজধানীর বাস রুট ৯৮ থেকে কমিয়ে ৩২’র পরিকল্পনা, প্রতি রুটে থাকবে এক কম্পানি

Update Time : ১১:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সড়কে যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা। আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা আর এক বাসকে আটকাতে অন্য বাসের চালকের রাস্তা অবরোধ রাজধানীর গণপরিবহনে এমন বিশৃঙ্খলা নিত্যদিনের ঘটনা।

এ পরিস্থিতি বদলাতে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে ৩২টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রুটে থাকবে একটি কোম্পানি, যার অধীনে পরিচালিত হবে সব বাস।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানান, সম্মিলিত উদ্যোগে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।

তবে পুরো ব্যবস্থাটি গতিশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আসতে পারে।

ডিটিসিএর দাবি, এর আগে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ সফল হয়নি। এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

এর একটি আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অন্য রুট হিসেবে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়ে আলোচনা চলছে।

উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক সমিতিও কাজ শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনার পর পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে কাজ চলছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মালিকরা।

ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ব্যাবসায়িক মডেল, মালিকদের লোকসান এড়ানোর নিশ্চয়তা এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া উদ্যোগটি সফল করা কঠিন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, মালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব।