২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ভয়াবহ নদীভাঙন, ধসে পড়ছে সড়ক-আতঙ্কে গ্রামবাসী

বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ গ্রামে পাণ্ডব নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকা ও গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

২৫ অক্টোবর রাতে দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের প্রধান পাকা সড়কটির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট দীর্ঘ গভীর ফাটল। যেকোনো সময় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবিতে এক বৃদ্ধকে লাঠিতে ভর দিয়ে ভাঙনকবলিত সড়ক পার হতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ সাদিশসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বায়জিদ আলম বলেন, “প্রতিদিন নদী আমাদের গ্রাম গিলে খাচ্ছে। এই রাস্তাটা ভেঙে গেলে আমাদের দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়িও থাকবে না।”

এদিকে, নদীভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ২৬ অক্টোবর পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তার। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে তাঁরা এলাকাটি পরিদর্শনে এসেছেন। নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাঁরা দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের অন্যান্য ভাঙনকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপন কিংবা টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক, বসতবাড়ি ও গ্রাম রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এখন দক্ষিণ সাদিশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—প্রশাসনের আশ্বাস যেন দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পায় তাঁদের গ্রাম ও যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন সড়কটি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ভয়াবহ নদীভাঙন, ধসে পড়ছে সড়ক-আতঙ্কে গ্রামবাসী

Update Time : ১০:৩৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ গ্রামে পাণ্ডব নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকা ও গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

২৫ অক্টোবর রাতে দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের প্রধান পাকা সড়কটির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট দীর্ঘ গভীর ফাটল। যেকোনো সময় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবিতে এক বৃদ্ধকে লাঠিতে ভর দিয়ে ভাঙনকবলিত সড়ক পার হতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ সাদিশসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বায়জিদ আলম বলেন, “প্রতিদিন নদী আমাদের গ্রাম গিলে খাচ্ছে। এই রাস্তাটা ভেঙে গেলে আমাদের দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়িও থাকবে না।”

এদিকে, নদীভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ২৬ অক্টোবর পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী খাদিজা আক্তার। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে তাঁরা এলাকাটি পরিদর্শনে এসেছেন। নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তাঁরা দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের অন্যান্য ভাঙনকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপন কিংবা টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক, বসতবাড়ি ও গ্রাম রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এখন দক্ষিণ সাদিশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—প্রশাসনের আশ্বাস যেন দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পায় তাঁদের গ্রাম ও যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন সড়কটি।