০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রাবাড়িতে শ্রমিকলীগ নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: রাশেদ রেজা জুয়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও ভুয়া সাংবাদিকতার ছায়া

ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভুয়া সাংবাদিকতার অভিযোগ উঠেছে রাশেদ রেজা জুয়েল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার বাসিন্দা রাশেদ রেজা জুয়েল একসময় নিজেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের স্ত্রী রিক্তার ভাগিনা পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন। পাশাপাশি তিনি নিজেকে যাত্রাবাড়ী শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর জুয়েলের কোনো দৃশ্যমান বা বৈধ ব্যবসা কিংবা স্থায়ী আয়ের উৎস ছিল না। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় এক ধরনের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাশেদ রেজা জুয়েল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে তার নামে কোনো উল্লেখযোগ্য সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা মূলধারার সাংবাদিকতায় সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই তথাকথিত সাংবাদিকতা ও শ্রমিকলীগ নেতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ‘উপরে লাইন আছে’, ‘মন্ত্রী পরিবারের লোক’—এমন বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রেলমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য পরিচয়ে যে প্রভাব খাটানো হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা ধরে রাখতে তিনি বিএনপির ছত্রছায়ায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রাবাড়ীর এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক (চাচাতো শ্বশুর) ব্যবহার করে নতুন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ব্যানার বদলালেও তার কর্মকাণ্ডের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি—চাঁদাবাজি, ভয় দেখানো ও অপসাংবাদিকতার অভিযোগ আগের মতোই রয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ রাশেদ রেজা জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন। তবে কারামুক্তির পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বারবার চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সক্রিয় থাকেন?

সচেতন মহলের মতে, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় যাচাই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে যাত্রাবাড়ী যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে রাশেদ রেজা জুয়েলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

যাত্রাবাড়িতে শ্রমিকলীগ নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: রাশেদ রেজা জুয়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও ভুয়া সাংবাদিকতার ছায়া

Update Time : ০৬:২১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ের ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভুয়া সাংবাদিকতার অভিযোগ উঠেছে রাশেদ রেজা জুয়েল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার বাসিন্দা রাশেদ রেজা জুয়েল একসময় নিজেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের স্ত্রী রিক্তার ভাগিনা পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন। পাশাপাশি তিনি নিজেকে যাত্রাবাড়ী শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর জুয়েলের কোনো দৃশ্যমান বা বৈধ ব্যবসা কিংবা স্থায়ী আয়ের উৎস ছিল না। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় এক ধরনের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাশেদ রেজা জুয়েল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে তার নামে কোনো উল্লেখযোগ্য সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা মূলধারার সাংবাদিকতায় সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই তথাকথিত সাংবাদিকতা ও শ্রমিকলীগ নেতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে ‘উপরে লাইন আছে’, ‘মন্ত্রী পরিবারের লোক’—এমন বক্তব্য দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রেলমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য পরিচয়ে যে প্রভাব খাটানো হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা ধরে রাখতে তিনি বিএনপির ছত্রছায়ায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রাবাড়ীর এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক (চাচাতো শ্বশুর) ব্যবহার করে নতুন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ব্যানার বদলালেও তার কর্মকাণ্ডের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি—চাঁদাবাজি, ভয় দেখানো ও অপসাংবাদিকতার অভিযোগ আগের মতোই রয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ রাশেদ রেজা জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন। তবে কারামুক্তির পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বারবার চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সক্রিয় থাকেন?

সচেতন মহলের মতে, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এটি প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় যাচাই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে যাত্রাবাড়ী যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে রাশেদ রেজা জুয়েলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।