০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪২৮

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫ Time View

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮–এ দাঁড়িয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)’ গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নিহত হওয়ার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও সিবিএস নিউজের মতো কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, নিহত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে, তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্যের নিরপেক্ষতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাজপথে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রাশত শহরের এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী একদল তরুণ বিক্ষোভকারীকে ঘিরে ফেলার পর তাঁরা আত্মসমর্পণের জন্য হাত তোলেন। এরপরও তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মরদেহের সঙ্গে সেলফি তুলছেন বলেও অভিযোগও পাওয়া গেছে। কুর্দি–অধ্যুষিত অঞ্চলে অঘোষিত সামরিক আইন জারি করা হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইরানের শাসকেরা যে ধরনের অপরাধ করেছিলেন, বর্তমানে আবার সেই একই পথে হাঁটছে তারা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটবে।

নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বহির্বিশ্ব থেকে ইরান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দমন–পীড়নের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪২৮

Update Time : ০৪:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮–এ দাঁড়িয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)’ গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় নিহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নিহত হওয়ার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও সিবিএস নিউজের মতো কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, নিহত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে, তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্যের নিরপেক্ষতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাজপথে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রাশত শহরের এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী একদল তরুণ বিক্ষোভকারীকে ঘিরে ফেলার পর তাঁরা আত্মসমর্পণের জন্য হাত তোলেন। এরপরও তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মরদেহের সঙ্গে সেলফি তুলছেন বলেও অভিযোগও পাওয়া গেছে। কুর্দি–অধ্যুষিত অঞ্চলে অঘোষিত সামরিক আইন জারি করা হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইরানের শাসকেরা যে ধরনের অপরাধ করেছিলেন, বর্তমানে আবার সেই একই পথে হাঁটছে তারা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটবে।

নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বহির্বিশ্ব থেকে ইরান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দমন–পীড়নের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে।