বাকেরগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার হাটবাজার, সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের ময়লা-আবর্জনাও সড়কের পাশে, হাটবাজারের ভেতরে, আবাসিক এলাকা এবং খাল-নদীর তীরে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলা হচ্ছে—যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব বর্জ্য বছরের পর বছর ধরে রাস্তার ওপর ও নদীর তীরে স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে। পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়কের ধারে ও ড্রেনে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে এডিসসহ নানা প্রজাতির মশার প্রজনন বেড়ে গেছে। ফলে মশার উৎপাতের কারণে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।
বিশেষ করে পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে এবং বাকেরগঞ্জ বন্দরের পুরাতন লঞ্চঘাট তুলাতলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু, বৃদ্ধি পাচ্ছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে আশপাশের আবাসিক এলাকা বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ভিআইপি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় জাহানারা ক্লিনিক, গ্রীন লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা বর্জ্য কোনো প্রকার সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই সড়কের পাশে উন্মুক্তভাবে ফেলা হচ্ছে। ইঞ্জেকশনের সূচ, জীবাণুযুক্ত তুলা, ব্যান্ডেজ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ বিপজ্জনক চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালি ময়লার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এ ছাড়াও টিএন্ডটি রোডের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ জমে আছে। সড়কের পাশের পৌর ড্রেনগুলো পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। বন্দরের আবাসিক এলাকাসহ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল-নদীতেও নিয়মিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি মো. সজল মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল ও বাসাবাড়ির বর্জ্য এভাবে খোলা স্থানে ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
অন্যদিকে, বাকেরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, “পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আপাতত সড়কের পাশেই ময়লা রাখতে হচ্ছে। দ্রুত একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে সেখানে পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
পৌরবাসীর দাবি—স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হোক এবং অবৈধভাবে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 



















