বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৯নং কলসকাঠি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ ও আমতলি সাদিশ গ্রাম দুটি দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান ভাঙনে ইতোমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামীণ সড়ক, মসজিদ, মাছের ঘেরসহ হাজারো বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীভাঙনরোধে নানা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও এ এলাকায় এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে, আর অসহায় মানুষজন চোখের সামনে তাদের ভিটেমাটি হারান।
নদীভাঙনরোধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন “গর্বের বাকেরগঞ্জ” কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বায়েজিদ আলম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের অনেকের বাপ-দাদার বাড়িঘর ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। স্থানীয় জনগণ আজ দিশেহারা ও অসহায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গ্রাম দুটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তিনি সরকার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে দক্ষিণ সাদিশ ও আমতলি সাদিশ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান–এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করবেন।
গ্রামবাসীর একটাই প্রত্যাশা—সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দক্ষিণ সাদিশ ও আমতলি সাদিশ গ্রামকে মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা হোক।
মোঃ এনামুল হক 



















