৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চর সোনাকান্দায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ: নৌকা-টলারের ওপর নির্ভরশীল হাজারো গ্রামবাসী, ভাড়ার নৈরাজ্যে দিশেহারা মানুষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নের চর সোনাকান্দা গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র প্রধান মাধ্যম নৌকা ও টলার। যাদের নিজস্ব নৌকা নেই, তাদের বাধ্য হয়ে টলারের ওপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবাই হাট থেকে চর সোনাকান্দা চরের খলিফা বাড়ি পর্যন্ত যেতে হাটের দিনে মাথাপিছু ২০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। তবে হাটের সময় শেষ হলে একই পথে পারাপারের জন্য জনপ্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

গ্রামবাসীরা জানান, চর অঞ্চলের ভেতরে কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনের কাজকর্মে যাতায়াতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ।

শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সংকট। চর সোনাকান্দা এলাকায় কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পাশ্ববর্তী এলাকায় যেতে হয়। অনিরাপদ যাতায়াত ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, ফলে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, যাতায়াতের ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় খেয়া পারাপারের কোনো সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় টলার মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে চরবাসীর জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।

চর সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় প্রশাসন ও মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন—
১) চর অঞ্চলের ভেতরে রাস্তাঘাট পাকাকরণ,
২) নির্ধারিত ভাড়ায় নিয়মিত খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা,
৩) চর সোনাকান্দা এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন,
৪) নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এলাকাবাসীর মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

চর সোনাকান্দায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ: নৌকা-টলারের ওপর নির্ভরশীল হাজারো গ্রামবাসী, ভাড়ার নৈরাজ্যে দিশেহারা মানুষ

Update Time : ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নের চর সোনাকান্দা গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র প্রধান মাধ্যম নৌকা ও টলার। যাদের নিজস্ব নৌকা নেই, তাদের বাধ্য হয়ে টলারের ওপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবাই হাট থেকে চর সোনাকান্দা চরের খলিফা বাড়ি পর্যন্ত যেতে হাটের দিনে মাথাপিছু ২০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। তবে হাটের সময় শেষ হলে একই পথে পারাপারের জন্য জনপ্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

গ্রামবাসীরা জানান, চর অঞ্চলের ভেতরে কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনের কাজকর্মে যাতায়াতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ।

শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সংকট। চর সোনাকান্দা এলাকায় কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পাশ্ববর্তী এলাকায় যেতে হয়। অনিরাপদ যাতায়াত ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, ফলে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, যাতায়াতের ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় খেয়া পারাপারের কোনো সরকারি ব্যবস্থা না থাকায় টলার মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। এতে চরবাসীর জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে।

চর সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় প্রশাসন ও মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন—
১) চর অঞ্চলের ভেতরে রাস্তাঘাট পাকাকরণ,
২) নির্ধারিত ভাড়ায় নিয়মিত খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা,
৩) চর সোনাকান্দা এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন,
৪) নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এলাকাবাসীর মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।