৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: উদ্বোধন হলো গোমা সেতু, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নকশাগত জটিলতা এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত ‘গোমা সেতু’। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, এমপি, বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধানে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬০ মিটার এবং এটি দুই লেন বিশিষ্ট, যা ভারী যান চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।

সেতুটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে মাঝের ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘স্টিল ট্রাস স্প্যান’ প্রযুক্তি। এর ফলে সেতুটি সাধারণের তুলনায় ৯.১৪ মিটার বেশি উঁচু, যা বড় জাহাজ চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন ও উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মে মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০১৯ সালে সেতুর উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও সওজ-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাঙামাটি নদী দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ হওয়ায় নির্ধারিত উচ্চতা ১২.২০ মিটার রাখার দাবি ওঠে, যার ফলে প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর পুনরায় কাজ শুরু হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “গোমা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়া এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরি দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”

সেতুটি চালু হওয়ায় এখন থেকে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর গোমা সেতু খুলে দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: উদ্বোধন হলো গোমা সেতু, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত

Update Time : ০৬:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নকশাগত জটিলতা এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত ‘গোমা সেতু’। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, এমপি, বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধানে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬০ মিটার এবং এটি দুই লেন বিশিষ্ট, যা ভারী যান চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।

সেতুটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে মাঝের ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘স্টিল ট্রাস স্প্যান’ প্রযুক্তি। এর ফলে সেতুটি সাধারণের তুলনায় ৯.১৪ মিটার বেশি উঁচু, যা বড় জাহাজ চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন ও উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মে মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০১৯ সালে সেতুর উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও সওজ-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাঙামাটি নদী দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ হওয়ায় নির্ধারিত উচ্চতা ১২.২০ মিটার রাখার দাবি ওঠে, যার ফলে প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর পুনরায় কাজ শুরু হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “গোমা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়া এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরি দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”

সেতুটি চালু হওয়ায় এখন থেকে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর গোমা সেতু খুলে দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।