১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব থেকে আসছে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) দ্রুত ছাড় করিয়ে আনতে ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। এই নতুন আমদানিকৃত তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।

যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, এই জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। জাহাজটি অনুমতি পেলে সরাসরি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে।

হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা নেই।

আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর বাজারজাত করা হবে।

পরিশোধন প্রক্রিয়ার পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলমের মতে, এই পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে সংকট অনেকটা কাটলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের তৎপরতারই প্রতিফলন।

Tag :
About Author Information

Mohon

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

সৌদি আরব থেকে আসছে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

Update Time : ১১:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) দ্রুত ছাড় করিয়ে আনতে ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। এই নতুন আমদানিকৃত তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।

যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, এই জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। জাহাজটি অনুমতি পেলে সরাসরি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে।

হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা নেই।

আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর বাজারজাত করা হবে।

পরিশোধন প্রক্রিয়ার পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলমের মতে, এই পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে সংকট অনেকটা কাটলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের তৎপরতারই প্রতিফলন।