৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে অকেজো গভীর নলকূপ, বিশুদ্ধ পানির সংকটে সাধারণ মানুষ

বাকেরগঞ্জ উপজেলা-এ একাধিক সরকারি দপ্তরে স্থাপিত গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত অনেক গভীর নলকূপ বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। কোথাও মেশিন নষ্ট, কোথাও পাইপলাইনে ত্রুটি, আবার কোথাও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নলকূপগুলো অচল অবস্থায় রয়েছে। তবে এসব নলকূপ সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এসব গভীর নলকূপই ছিল বিশুদ্ধ পানির একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুর বা অনিরাপদ উৎসের পানির ওপর নির্ভর করছেন, যা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় বছরের পর বছর ধরে গভীর নলকূপ অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন রাবেয়া বেগম বলেন, “তিন দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছি, কিন্তু এখানে কোনো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

পৌর এলাকার সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা সুমন সরদার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে নলকূপগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। আমরা বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে আছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অকেজো নলকূপগুলো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হোক। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পৌর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। অকেজো নলকূপ রক্ষণাবেক্ষণ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

অন্যদিকে, বাকেরগঞ্জ পৌরসভা-এর ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তন্ময় হালদার জানান, “উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে নলকূপ অকেজো থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন নলকূপ স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বাকেরগঞ্জে অকেজো গভীর নলকূপ, বিশুদ্ধ পানির সংকটে সাধারণ মানুষ

Update Time : ০৪:২৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলা-এ একাধিক সরকারি দপ্তরে স্থাপিত গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত অনেক গভীর নলকূপ বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। কোথাও মেশিন নষ্ট, কোথাও পাইপলাইনে ত্রুটি, আবার কোথাও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নলকূপগুলো অচল অবস্থায় রয়েছে। তবে এসব নলকূপ সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এসব গভীর নলকূপই ছিল বিশুদ্ধ পানির একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই পুকুর বা অনিরাপদ উৎসের পানির ওপর নির্ভর করছেন, যা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় বছরের পর বছর ধরে গভীর নলকূপ অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব দপ্তরে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন রাবেয়া বেগম বলেন, “তিন দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছি, কিন্তু এখানে কোনো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

পৌর এলাকার সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা সুমন সরদার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে নলকূপগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। আমরা বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে আছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অকেজো নলকূপগুলো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হোক। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পৌর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। অকেজো নলকূপ রক্ষণাবেক্ষণ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

অন্যদিকে, বাকেরগঞ্জ পৌরসভা-এর ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তন্ময় হালদার জানান, “উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে নলকূপ অকেজো থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন নলকূপ স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।