৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়- গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন।

রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের মতো অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়- গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না

Update Time : ১২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন।

রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের মতো অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।