বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৪ নং দুধল ইউনিয়ন ও ৭ নং কবাই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগের ভরসা ছোট্ট একটি সেতু। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে বর্তমানে সেতুটি পরিণত হয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সেতু পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির দুই পাশে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী বইখাতা হাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেতুর ওপর পিচ্ছিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পুরো কাঠামো কাঁপতে থাকে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শতরাজ পেয়ারপুর বাজারে যাতায়াতের এটিই একমাত্র সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কার্যক্রমই নির্ভর করছে এই ভাঙাচোরা সেতুর ওপর। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে ভয় লাগে। সেতু পার হতে গিয়েই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ছোট ছোট বাচ্চারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।”
আরেক অভিভাবক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিরাপদে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। কখন যে বড় দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্কে থাকি।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, একটি নিরাপদ সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবন, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















