রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ জুন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করেছি, কিন্তু হত্যা করেছে ডলার।” তিনি আরও দাবি করেন, “ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছে।” তবে ‘ডলার’ নামে যাকে অভিযুক্ত করছেন, তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তিনি মিরপুর-১১ এলাকার একজন ধনী ব্যক্তি।
সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আদালত চার্জ গঠনের জন্য ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবে। তবে বিচার কার্যক্রমের গতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর নির্ভর করবে।”
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তার বাড়ি থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত চলাকালে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এখন মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।
মোঃ জহিরুল ইসলাম 


















