২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীভাঙনের কবলে বিলীন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী কবাই হাট, চরম দুর্ভোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কবাই হাট বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই হাটের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে হাটের দোকানপাট, সড়ক ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ব্যবসা বন্ধ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, কবাই হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। নদীভাঙনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে গেছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। কখন নদী আরও ভেঙে ঘরবাড়ি ও হাটের অবশিষ্ট অংশ গ্রাস করে নেয়, সেই শঙ্কায় রয়েছি। দ্রুত নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কবাই হাটের অস্তিত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।”

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী কবাই হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নদীভাঙনের কবলে বিলীন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী কবাই হাট, চরম দুর্ভোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা

Update Time : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭নং কবাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কবাই হাট বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই হাটের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে হাটের দোকানপাট, সড়ক ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ব্যবসা বন্ধ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, কবাই হাট শুধু একটি বাজার নয়, এটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবিকা ও যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। নদীভাঙনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে গেছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। কখন নদী আরও ভেঙে ঘরবাড়ি ও হাটের অবশিষ্ট অংশ গ্রাস করে নেয়, সেই শঙ্কায় রয়েছি। দ্রুত নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কবাই হাটের অস্তিত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।”

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী কবাই হাটের পাশাপাশি আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।