সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (সোয়া)-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) স্থানীয় হেলাল উদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও প্রবীণরা চোখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (সোয়া)-এর সভাপতি মাওলানা মোঃ নুরুল আমীন। তিনি বলেন, “মানবসেবাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সমাজের যেসব মানুষ আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, “বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়েছে। এমন বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমরা চোখ পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছি।”
আরেক সেবাগ্রহীতা রহিমা বেগম বলেন, “গ্রামের সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব হয় না। এলাকার মধ্যে এমন একটি আয়োজন আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে পরিচালিত এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (সোয়া)-এর এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এলাকাবাসী ভবিষ্যতেও সংগঠনটির এমন জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















