বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের ঢাপরকাঠি গ্রামের উত্তর ঢাপরকাঠির খান বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে খান বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। তারা বাড়ির ভেতর ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করলেও তখন তাদের গতিবিধি নিয়ে কেউ তেমন সন্দেহ করেননি। কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
এর মাত্র দুই দিন পর, ১২ আগস্ট গভীর রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল খান বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা রাজ্জাক খানের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।
এ সময় চোরেরা বারেক খান, লিটন খান ও মজিদ খানের গোয়ালঘরের তালাও ভাঙার চেষ্টা করে। তবে সৌভাগ্যক্রমে সেখান থেকে কোনো গরু নিয়ে যেতে পারেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চোরেরা একের পর এক গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ বিষয়টি টের পেলে চোরেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, কয়েকদিন আগে ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে যারা বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছিল, তাদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, চোরেরা আগে থেকেই বাড়ির অবস্থান, গোয়ালঘরের সংখ্যা, গরুর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকে উত্তর ঢাপরকাঠি ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরিচিত ফেরিওয়ালা ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
মোঃ রাকিব খান 



















