ভাষানীতি ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে গাজীপুরে ‘রাষ্ট্রীয় ভাষা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ভাষানীতির গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টায় জাতীয় ভাষা পরিষদের উদ্যোগে গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভাষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার এবং একটি কার্যকর জাতীয় ভাষানীতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক গৌরবময় অধ্যায়। তবে রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর জাতীয় ভাষানীতি প্রয়োজন। জাতীয় ভাষানীতির মাধ্যমে বাংলা ভাষার মর্যাদা, ব্যবহার ও বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ভাষাগত বৈচিত্র্যও সংরক্ষণ করা সম্ভব।
সেমিনারে বাংলা ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রের দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে। তবে জাতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা কার্যত ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ভাষার স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার দাবি রাখে।
তারা আরও বলেন, এ জনপদে প্রচলিত সকল ভাষার যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া সময়ের দাবি। ভাষাশহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অন্যতম উপায় হলো রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার অধিকার, মর্যাদা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট দিলারা সুলতানা সেঁতু, মেয়র পদপ্রার্থী, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) মো. শহিদ আলম; ভাষাসৈনিক মরহুম মোবারক হোসেনের পুত্র ও জাতীয় ভাষা পরিষদের উপদেষ্টা রাষ্ট্রচিন্তক মোজাম্মেল হোসেন মোহন; গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর; গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সোহাগ হোসেন এবং গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।
সেমিনার উদ্বোধন করেন ৭১-এর গেরিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় ভাষা পরিষদের উপদেষ্টা আবুল হোসেন। জাতীয় ভাষা পরিষদের মহাসচিব সুফি মোহাম্মদ আহসান হাবীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতীয় ভাষা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব শাহ জামাল।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষা শহিদ কলেজের অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক, সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র সম্পাদক জুলীয়াস চৌধুরী, টঙ্গী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, একই কলেজের বাংলা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক আয়েশা আক্তার, ভাওয়াল মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিভাগীয় প্রধান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পূবাইল আদর্শ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন, কোনাবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর কর্মকর্তা (লাইসেন্স) (চ. দা.) গোলাম মো. মোস্তফা কামাল।
বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর জাতীয় ভাষানীতি প্রণয়ন শুধু বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে শিক্ষা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভাষার সুশৃঙ্খল ব্যবহারও জড়িত। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রচলিত ভাষার প্রতি সম্মান ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
আয়োজকরা জানান, সেমিনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভাষা ব্যবস্থাপনায় একটি সুসংগঠিত জাতীয় ভাষানীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা ও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আবু সাঈদ খান 



















