বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাটাদিয়া ফেরিঘাটে খেয়া ট্রলারে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঘাটে মাত্র একটি ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার করায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাটাদিয়া ফেরিঘাটটি আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হন। কিন্তু বর্তমানে ঘাটে একটি খেয়া ট্রলার থাকায় একবার পারাপারের পর ট্রলারটি ফিরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় ক্লাসে দেরি হচ্ছে তাদের। একইভাবে জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে ঘাটে আসা স্বজনদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও দুর্ভোগ।
ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। নিয়মিত পণ্য আনা-নেওয়া ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে ট্রলারের জন্য অপেক্ষা করতে হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটিই নষ্ট হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার করায় যাত্রীদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সময়ে ঘাটে মানুষের ভিড় বাড়লেও অতিরিক্ত ট্রলারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে কাটাদিয়া ফেরিঘাটে দ্রুত আরও একটি খেয়া ট্রলারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















