০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বাসসকে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।” তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের যাতায়াতের সময় থাকবে পুলিশি পাহারা ও বিশেষ নিরাপত্তা। তাঁর বাসভবন ও কার্যালয়েও থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উর্দিধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া বিমানবন্দর থেকে গুলশানে যাওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিমও। ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের আগমনের দিন রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জনসমাগম শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের প্রতি ইতোমধ্যে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামকে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক নিরাপত্তা টিম কাজ করবে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তারেক রহমানকে নিরাপদে গুলশানে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগ পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই দিন ঢাকায় পৌঁছালে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সংগঠনকে ত্বরান্বিত করতে ৮ নং নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি

Update Time : ১০:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, জননিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম বাসসকে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাঁর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।” তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের যাতায়াতের সময় থাকবে পুলিশি পাহারা ও বিশেষ নিরাপত্তা। তাঁর বাসভবন ও কার্যালয়েও থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উর্দিধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া বিমানবন্দর থেকে গুলশানে যাওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিমও। ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের আগমনের দিন রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জনসমাগম শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের প্রতি ইতোমধ্যে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামকে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক নিরাপত্তা টিম কাজ করবে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তারেক রহমানকে নিরাপদে গুলশানে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগ পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই দিন ঢাকায় পৌঁছালে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে।