বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের চাটরা ২নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সপ্তাহে অধিকাংশ দিন ক্লিনিক বন্ধ থাকা, নির্ধারিত সময়ের আগেই সেবা বন্ধ করে দেওয়া এবং সরকারি ওষুধ বিতরণে অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সপ্তাহে মাত্র ২-৩ দিন সীমিত সময়ের জন্য এটি খোলা থাকে।
সরেজমিনে তালাবদ্ধ ক্লিনিক
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পাশের এক দোকানদার জানান, “সপ্তাহে ২-৩ দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলে। ডাক্তারও ১০টার পরে আসেন, আবার ১টার আগেই চলে যান।”
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ক্লিনিকটির দায়িত্বে রয়েছেন সিএইচসিপি সৈয়দ নয়ন।
ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা
ক্লিনিকটির পাশেই রয়েছে চাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়রা জানান, ক্লাস চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলেও বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে ৬০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী কয়েকজন বৃদ্ধ অভিযোগ করে বলেন, “প্রেশারের ওষুধ নিতে কয়েকদিন ধরে ঘুরছি। যেদিন ক্লিনিক খোলা পাই, সেদিন আবার ওষুধ থাকে না।”
সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী আ. রহমান খলিফা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ দেয়। কিন্তু রোগীরা গেলে বলা হয় ওষুধ নেই। অথচ পরিচিত লোকজনকে সরকারি ওষুধ দেওয়া হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতরাই ঠিকমতো ওষুধ পান, সাধারণ মানুষকে প্রায়ই ‘ওষুধ নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ
চাটরা বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিন্টু বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লিনিক চালু রাখতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। গরিব মানুষ যেন বিনামূল্যে ওষুধ পায়, সেটাও দেখতে হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক সপ্তাহে ৬ দিন খোলা রাখা বাধ্যতামূলক।”
এলাকাবাসীর ৩ দফা দাবি
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে—
১. অবিলম্বে সপ্তাহে ৬ দিন নিয়মিত ক্লিনিক চালু রাখা।
২. সরকারি ওষুধ বিতরণে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. সপ্তাহে অন্তত ২ দিন একজন স্থায়ী এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন।
দুধল ইউনিয়নের চাটরা ২নং ওয়ার্ডের প্রায় ৩ হাজার মানুষ এই কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানববন্ধনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মোঃ রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) 




















