১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাথায় পানির বোতল দিয়ে শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারালো মুগ্ধ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জমাট বাধা পানির বোতল দিয়ে ছাত্রের মাথায় আঘাতের অভিযোগ উঠেছে।

এতে মুগ্ধ তালুকদার (১১) নামের ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থসংকটের কারণে বুধবার (১৩ মে) সকাল পৌনে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

মুগ্ধ মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকায় সে গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। সে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল মুগ্ধ। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করা হয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরান।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি কাউকে জানালে আরও মারধর ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষক তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

মুগ্ধের মামা মারুফ খান জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে এবং পরদিন কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায় ও বমি করে। একপর্যায়ে তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিটি স্ক্যান ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তার দ্রুত ময়মনসিংহ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এখনো নিতে পারিনি। ছেলেটার অবস্থা নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি।’

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাতের বিষয়টি জটিল মনে হচ্ছে। সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।’

আহত শিক্ষার্থীর খালা মুক্তা খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকার পরও একজন শিক্ষক কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ বলেন, ‘মুগ্ধ অতিরিক্ত দুষ্টুমি করছিল। একপর্যায়ে তার মাথায় ঠান্ডা পানির ছোট একটি বোতল দিয়ে হালকাভাবে আঘাত করেছি। ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা হয়নি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সার আহমেদকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মুগ্ধের মামা মারুফ খান।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

মাথায় পানির বোতল দিয়ে শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারালো মুগ্ধ

মাথায় পানির বোতল দিয়ে শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারালো মুগ্ধ

Update Time : ১২:৩৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জমাট বাধা পানির বোতল দিয়ে ছাত্রের মাথায় আঘাতের অভিযোগ উঠেছে।

এতে মুগ্ধ তালুকদার (১১) নামের ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থসংকটের কারণে বুধবার (১৩ মে) সকাল পৌনে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

মুগ্ধ মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকায় সে গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। সে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল মুগ্ধ। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ফ্রিজে রাখা বরফ জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করা হয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরান।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি কাউকে জানালে আরও মারধর ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষক তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

মুগ্ধের মামা মারুফ খান জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে এবং পরদিন কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায় ও বমি করে। একপর্যায়ে তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিটি স্ক্যান ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

তিনি বলেন, ‘ডাক্তার দ্রুত ময়মনসিংহ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এখনো নিতে পারিনি। ছেলেটার অবস্থা নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি।’

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাতের বিষয়টি জটিল মনে হচ্ছে। সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।’

আহত শিক্ষার্থীর খালা মুক্তা খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকার পরও একজন শিক্ষক কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ বলেন, ‘মুগ্ধ অতিরিক্ত দুষ্টুমি করছিল। একপর্যায়ে তার মাথায় ঠান্ডা পানির ছোট একটি বোতল দিয়ে হালকাভাবে আঘাত করেছি। ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা হয়নি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সার আহমেদকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মুগ্ধের মামা মারুফ খান।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।