জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম জকসু নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন তারিখ হিসেবে ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে চারটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে—ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। ভিপি পদে ১২ জন, জিএস পদে ৯ জন ও এজিএস পদে ৮ জন প্রার্থী লড়ছেন।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে নির্বাচন ঘিরে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ওএমআর যন্ত্রে অসংগতির অভিযোগ তুলেছে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল। যদিও নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান দাবি করেছেন, নতুন মেশিন যুক্ত করে পরীক্ষামূলক যাচাইয়ে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি এবং ওএমআর পদ্ধতিতেই ভোট গণনা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে। ভোটারদের নির্ধারিত ফটক ব্যবহার, আইডি কার্ড প্রদর্শনসহ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। দীর্ঘদিনের সংকট পেরিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেবে—এমন আশায় আজ ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 
























