২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল-৬ আসনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে ইউএনওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বরিশাল-৬ আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যার একজন তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন দল-মত নির্বিশেষে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বরিশাল-৬ আসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিনটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রথমত, তিনি অভিযোগ করেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ প্রায় দেড় বছর ধরে একই পদে কর্মরত রয়েছেন এবং একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান না থাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দ তাঁর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ অবস্থায় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে অন্য অনেক উপজেলায় ইউএনও বদলি হলেও রহস্যজনক কারণে বাকেরগঞ্জের ইউএনওকে বদলি করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ওই পদে কেন পদায়ন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি মাসুম বিল্লাহর স্থায়ী ঠিকানা পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলায় এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তাঁর একাধিক আত্মীয়-স্বজন বসবাস করেন বলে দাবি করেন তিনি। ছাত্রজীবনে তাঁর ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বলে লোকমুখে শোনা যায়—যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তৃতীয়ত, তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ইউনিয়নে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের পদায়নের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সব ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দ্রুত প্রত্যাহার করে অন্য জেলা থেকে নতুন ইনচার্জ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ধরপাকড় বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়ে ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) এবং সব ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন করে পদায়ন দেওয়া হোক—যাতে বরিশাল-৬ আসনে প্রকৃত অর্থে একটি ‘নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। প্রার্থী দাবি তুলতেই পারেন, এটা তাঁর বিষয়।”

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বরিশাল-৬ আসনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে ইউএনওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

Update Time : ০৭:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বরিশাল-৬ আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যার একজন তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন দল-মত নির্বিশেষে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বরিশাল-৬ আসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিনটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রথমত, তিনি অভিযোগ করেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ প্রায় দেড় বছর ধরে একই পদে কর্মরত রয়েছেন এবং একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান না থাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দ তাঁর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ অবস্থায় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে অন্য অনেক উপজেলায় ইউএনও বদলি হলেও রহস্যজনক কারণে বাকেরগঞ্জের ইউএনওকে বদলি করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ওই পদে কেন পদায়ন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি মাসুম বিল্লাহর স্থায়ী ঠিকানা পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলায় এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তাঁর একাধিক আত্মীয়-স্বজন বসবাস করেন বলে দাবি করেন তিনি। ছাত্রজীবনে তাঁর ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বলে লোকমুখে শোনা যায়—যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তৃতীয়ত, তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ইউনিয়নে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের পদায়নের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সব ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দ্রুত প্রত্যাহার করে অন্য জেলা থেকে নতুন ইনচার্জ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার, হয়রানি ও ধরপাকড় বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়ে ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) এবং সব ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন করে পদায়ন দেওয়া হোক—যাতে বরিশাল-৬ আসনে প্রকৃত অর্থে একটি ‘নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। প্রার্থী দাবি তুলতেই পারেন, এটা তাঁর বিষয়।”