২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে ফ্রান্সে বিল পাস

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে দেশটির আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাস করেছেন। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গতকাল সোমবার রাতভর চলা এক অধিবেশনে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৩০টি, আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২১টি।

এখন বিলটিকে ফ্রান্সের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে পাস হওয়ার পর এটিকে আইনে পরিণত করা হবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ এই ভোটকে ফরাসি শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রস্তাবিত এ আইনের আওতায় ফ্রান্সে হাইস্কুলগুলোতে মুঠোফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে ক্ষতি করছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভূমিকা রাখছে।

গত শনিবার সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় মাখোঁ বলেন, ‘আমাদের শিশু ও কিশোরদের আবেগ কোনো বিক্রির পণ্য নয় কিংবা মার্কিন প্ল্যাটফর্ম বা চীনা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার বিষয়ও নয়।’

কর্তৃপক্ষ চাইছে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই নতুন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে।

ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল বলেন, তিনি আশা করছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সিনেট বিলটি পাস করবে, যেন ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়।

আতাল বর্তমানে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর দল রেনেসাঁর নেতা। তিনি আরও বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বয়সসীমা না মানা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।

খসড়া বিলে অনলাইন বিশ্বকোষ ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে একটি কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ইউরোপীয় পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা তৈরি করার কাজ চলছে।

এদিকে গতকাল শিশু সুরক্ষাবিষয়ক ৯টি সংগঠন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ‘নিষিদ্ধ’ না করে বরং প্ল্যাটফর্মগুলোকেই ‘জবাবদিহির আওতায়’ আনার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মাখোঁ হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন বহন নিষিদ্ধ করার পক্ষেও সমর্থন দিয়েছেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্স ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের কলেজে মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

তবে গতকাল সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন এ পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘ফ্রান্স টু’কে বলেন, ‘বিষয়টা এতটা সহজ নয়।’

এলিজাবেথ বোর্ন আরও বলেন, ‘প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে।’

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

১৫ বছর বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে ফ্রান্সে বিল পাস

Update Time : ০১:১৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে দেশটির আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাস করেছেন। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গতকাল সোমবার রাতভর চলা এক অধিবেশনে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৩০টি, আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২১টি।

এখন বিলটিকে ফ্রান্সের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে পাস হওয়ার পর এটিকে আইনে পরিণত করা হবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ এই ভোটকে ফরাসি শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রস্তাবিত এ আইনের আওতায় ফ্রান্সে হাইস্কুলগুলোতে মুঠোফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে ক্ষতি করছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভূমিকা রাখছে।

গত শনিবার সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় মাখোঁ বলেন, ‘আমাদের শিশু ও কিশোরদের আবেগ কোনো বিক্রির পণ্য নয় কিংবা মার্কিন প্ল্যাটফর্ম বা চীনা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার বিষয়ও নয়।’

কর্তৃপক্ষ চাইছে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই নতুন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে।

ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল বলেন, তিনি আশা করছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সিনেট বিলটি পাস করবে, যেন ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়।

আতাল বর্তমানে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর দল রেনেসাঁর নেতা। তিনি আরও বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বয়সসীমা না মানা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।

খসড়া বিলে অনলাইন বিশ্বকোষ ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে একটি কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ইউরোপীয় পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা তৈরি করার কাজ চলছে।

এদিকে গতকাল শিশু সুরক্ষাবিষয়ক ৯টি সংগঠন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ‘নিষিদ্ধ’ না করে বরং প্ল্যাটফর্মগুলোকেই ‘জবাবদিহির আওতায়’ আনার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মাখোঁ হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন বহন নিষিদ্ধ করার পক্ষেও সমর্থন দিয়েছেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্স ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের কলেজে মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

তবে গতকাল সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন এ পদক্ষেপ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘ফ্রান্স টু’কে বলেন, ‘বিষয়টা এতটা সহজ নয়।’

এলিজাবেথ বোর্ন আরও বলেন, ‘প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে।’