২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত-শিবির তৌহিদী জনতার ব্যানারে শাহ আলী মাজারে হামলা, নির্বিচার লাঠিপেটা

রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) এর মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কিছু লোক তৌহিদী জনতার ব্যানারে স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাত্ এই হামলায় মাজারের ভক্ত-মুরিদদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে এ হামলা নিয়ে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, মাজারের পাশে একটি স্থানে নামাজ পড়া হয়। ঐ স্থানে কতিপয় ব্যক্তি মাঝে মধ্যে আড্ডা দেয়। মাজারের পরিবেশ খারাপ করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কতিপয় কর্মী তৌহিদী জনতার ব্যানারে লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলা চালায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত শাহ আলী মাজার কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের একটি অভিযোগ পুলিশের কাছে দেয়ার কথা। অভিযোগ করা হলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। এদিকে মাজারে হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কিছু লোক লাঠি দিয়ে মাজারে থাকা লোকজনকে মারধর করে বের করে দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মুসল্লিগণ বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার পর প্রায় ৭০-৮০ জনের একটি দল মাজারে ঢোকে। তাদের হাতে লাঠি ও পাইপ ছিল। হামলাকারীদের মধ্যে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত ২০/২২ বছর বয়সের এক যুবকের পিঠে কালো কাপড়ের ব্যাগ ঝোলানো ছিল। তৌহিদী জনতার নামে ঐ যুবককে স্লোগান দিতে শোনা যায়। জড়ো হওয়া জনতাকে মাজারের হামলার নির্দেশ দেয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বিচারে মারধর শুরু করে তারা। এ সময় মাজারের ভিতরে লাল রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত ৪০/৪৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে বের করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মাজারে ঢুকে মুরিদ ও জিয়ারতকারীদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়। এ সময় হামলা থেকে ভক্ত-মুরিদদের রক্ষা করতে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

তবে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, মাজারে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে গত রাতে রওজার পাশে কয়েক জন বহিরাগত নারী-পুরুষ মাদক সেবন করছিল। স্থানীয়রা দেখে তাদের বের করে দেয়।

আবার ডিএমপির দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার এমদাদ হোসেন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে মাদক বিক্রি ও সেবনরোধে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

জামায়াত-শিবির তৌহিদী জনতার ব্যানারে শাহ আলী মাজারে হামলা, নির্বিচার লাঠিপেটা

Update Time : ০৯:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) এর মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কিছু লোক তৌহিদী জনতার ব্যানারে স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাত্ এই হামলায় মাজারের ভক্ত-মুরিদদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে এ হামলা নিয়ে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, মাজারের পাশে একটি স্থানে নামাজ পড়া হয়। ঐ স্থানে কতিপয় ব্যক্তি মাঝে মধ্যে আড্ডা দেয়। মাজারের পরিবেশ খারাপ করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কতিপয় কর্মী তৌহিদী জনতার ব্যানারে লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলা চালায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত শাহ আলী মাজার কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের একটি অভিযোগ পুলিশের কাছে দেয়ার কথা। অভিযোগ করা হলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। এদিকে মাজারে হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কিছু লোক লাঠি দিয়ে মাজারে থাকা লোকজনকে মারধর করে বের করে দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মুসল্লিগণ বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার পর প্রায় ৭০-৮০ জনের একটি দল মাজারে ঢোকে। তাদের হাতে লাঠি ও পাইপ ছিল। হামলাকারীদের মধ্যে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত ২০/২২ বছর বয়সের এক যুবকের পিঠে কালো কাপড়ের ব্যাগ ঝোলানো ছিল। তৌহিদী জনতার নামে ঐ যুবককে স্লোগান দিতে শোনা যায়। জড়ো হওয়া জনতাকে মাজারের হামলার নির্দেশ দেয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বিচারে মারধর শুরু করে তারা। এ সময় মাজারের ভিতরে লাল রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত ৪০/৪৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে বের করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মাজারে ঢুকে মুরিদ ও জিয়ারতকারীদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়। এ সময় হামলা থেকে ভক্ত-মুরিদদের রক্ষা করতে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

তবে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, মাজারে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে গত রাতে রওজার পাশে কয়েক জন বহিরাগত নারী-পুরুষ মাদক সেবন করছিল। স্থানীয়রা দেখে তাদের বের করে দেয়।

আবার ডিএমপির দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার এমদাদ হোসেন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে মাদক বিক্রি ও সেবনরোধে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।