বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। নির্ভীক সাংবাদিকতা, সত্য প্রকাশের সাহস এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। আজ এই মহান সাংবাদিকের ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তিনি তাঁর কলমকে মানুষের অধিকার আদায়ের শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাক-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে তিনি জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।
পাকিস্তান আমলে যখন অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, তখন ইত্তেফাক হয়ে ওঠে বঞ্চিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। বাঙালির ন্যায্য অধিকার, স্বাধিকার ও জাতিসত্তার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে লেখা তাঁর রাজনৈতিক কলাম সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে মানিক মিয়ার অবস্থান, ইত্তেফাক-এর সম্পাদকীয় নীতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে ছিল গভীর সামঞ্জস্য। ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রামে জনমত গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন। সেন্সরশিপ ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সত্য প্রকাশে তিনি কখনো পিছপা হননি। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
নির্ভীকতা, আদর্শ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আজও সাংবাদিক সমাজের অনুপ্রেরণার উৎস। ১৯৬৯ সালের ১ জুন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ৫৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এই ক্ষণজন্মা সাংবাদিককে, যিনি কলমের শক্তিতে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
মোজাম্মেল হোসেন মোহন 



















