রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল শেষে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই মিছিলে সাংবাদিককে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হামলা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াতের ধানমন্ডি জোন মিছিলের আয়োজন করে। মিছিল শেষে ব্রিফিং চলাকালে কয়েকজন জামায়াত কর্মী মাহফুজুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হামলার শিকার সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান জানান, জামায়াত কর্মীরা তাকে মারধর করে আহত করেছে। তিনি বলেন, “এটা লজ্জার। আপনারা তো সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলেন। একজন সাংবাদিকের কলার ধরা আর তাকে মারধর করা কি আপনাদের সেই স্বাধীনতার নমুনা?” পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় মাহফুজের গ্রামের বাড়ি বরিশালের সামাজিক সংগঠন গর্বের বাকেরগঞ্জের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, “মাহফুজ আমাদের গর্বের বাকেরগঞ্জের সদস্য এবং কোনো রাজনৈতিক মতাবলম্বী নয়।” তার এই পোস্ট মুহূর্তেই বাকেরগঞ্জে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকার মানুষজন ফেসবুকে নিন্দা জানাতে শুরু করেন।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের প্রতি কোনো ধরনের অসদাচরণ সমর্থন করি না। ফুটেজ দেখে আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করব এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।” তিনি আরও বলেন, “কোনো বহিরাগত এর সঙ্গে জড়িত ছিল কি না- তাও আমরা তদন্ত করে দেখব।”
এই ঘটনাটি সাংবাদিকদের জন্য এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন তুলে।
মোঃ জহিরুল ইসলাম 



















