২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯২ কোটি টাকার গোমা সেতুতে নিরাপত্তাহীনতা: উদ্বোধনের পাঁচ মাসেই খুলে নেওয়া হচ্ছে নাট-বল্টু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গোমা সেতু উদ্বোধনের পাঁচ মাস না পেরোতেই নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেতুতে এখনো স্ট্রিট লাইট স্থাপন না হওয়ায় রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যয়বহুল এই অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) গভীর রাতে সেতুর মাঝামাঝি অংশে নির্মাণাধীন নিরাপত্তা রেলিংয়ের একাধিক নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অন্ধকারের কারণে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে না এলেও পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এখন পর্যন্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন না হওয়ায় সন্ধ্যার পর পুরো সেতু এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। এই সুযোগে অসাধু চক্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় সেতুতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অন্ধকারে যানবাহন চলাচলের সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম ফকিরের দাবি, নাদিম, রহিদ ও নেয়ামুল নামে তিন যুবক শুক্রবার রাতে সেতুর নিরাপত্তা রেলিংয়ের ২৪টি নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় নাট-বল্টুগুলো উদ্ধার করে তাদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ন্যূনতম আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে সেতুতে স্ট্রিট লাইট স্থাপন, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল জোরদার এবং সরকারি সম্পদ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ তদারকি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, জনদুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

৯২ কোটি টাকার গোমা সেতুতে নিরাপত্তাহীনতা: উদ্বোধনের পাঁচ মাসেই খুলে নেওয়া হচ্ছে নাট-বল্টু, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

Update Time : ০৯:৫২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গোমা সেতু উদ্বোধনের পাঁচ মাস না পেরোতেই নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেতুতে এখনো স্ট্রিট লাইট স্থাপন না হওয়ায় রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন অংশের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যয়বহুল এই অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) গভীর রাতে সেতুর মাঝামাঝি অংশে নির্মাণাধীন নিরাপত্তা রেলিংয়ের একাধিক নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অন্ধকারের কারণে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে না এলেও পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর থেকে সেতুটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এখন পর্যন্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন না হওয়ায় সন্ধ্যার পর পুরো সেতু এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। এই সুযোগে অসাধু চক্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় সেতুতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অন্ধকারে যানবাহন চলাচলের সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম ফকিরের দাবি, নাদিম, রহিদ ও নেয়ামুল নামে তিন যুবক শুক্রবার রাতে সেতুর নিরাপত্তা রেলিংয়ের ২৪টি নাট-বল্টু খুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় নাট-বল্টুগুলো উদ্ধার করে তাদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ন্যূনতম আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে সেতুতে স্ট্রিট লাইট স্থাপন, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল জোরদার এবং সরকারি সম্পদ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, যথাযথ তদারকি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, জনদুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।