২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ ফলাফল হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ১৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে। ১৬ জনের সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক ও ৬ জন অন্যান্য কর্মচারী থাকলেও নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস না হওয়া, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং কিছু শিক্ষকের বিভিন্ন পেশা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। একই পরিবারের বা একই বাড়ির একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকার বিষয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষক হাজিরা খাতা, ক্লাস রুটিন, পাঠদান কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের তথ্য পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
১৬ জনের ১৬ জনই ফেল—দায় কার?
একজন-দুজন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া আর একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করা এক বিষয় নয়। ১৬ জনের সবাই অকৃতকার্য হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
একটি প্রতিষ্ঠান পুরো বছর ধরে ১৬ জন পরীক্ষার্থীকে কীভাবে প্রস্তুত করল—যার ফলাফলে শেষ পর্যন্ত একজনও পাস করতে পারল না? এটি কি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একাডেমিক দুর্বলতা—এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। তবে শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী।” একই সঙ্গে তিনি ক্লাস চলাকালে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও স্বীকার করেছেন গেছে।
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন বলেন, ১৬ পরীক্ষার্থীর শতভাগ অকৃতকার্যতার কারণ খুঁজে বের করতে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফলাফল ও একাডেমিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হোক। কারণ, ১৬ জনের ১৬ জনই যখন ফেল—তখন শুধু শিক্ষার্থীদের দিকে আঙুল তোলার আগে প্রতিষ্ঠানের আয়নায়ও তাকানো জরুরি।
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, অবিলম্বে শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে।
মোঃ জহিরুল ইসলাম 























