বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কালেঙ্গা কে.জি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কেরামত গায়েজা উদ্দিন নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়) ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৫-৩৩ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশানুরূপ নয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি মিলিয়েও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ জনের কম বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে নামমাত্র ৭ জন শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। এই শিক্ষকেরা কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন না। এমনকি বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো ভবন বা স্থাপনাও নেই বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মধ্যে এক-দুজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এলে একই ক্যাম্পাসে থাকা কালেঙ্গা আম্বিয়া খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের মেয়েদের ক্লাসে পাঠদান করান। ফলে পৃথক নামে দুটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এমনকি এই বালিকা বিদ্যালয় টি নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে কালেঙ্গা আম্বিয়া খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে একই এলাকায় কালেঙ্গা কে.জি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও কার্যক্রম পৃথক হলেও একই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তাদের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ও বর্তমানে দায়িত্বে থাকা এনায়েত হোসেন পান্না বলেন, কালেঙ্গা কে.জি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরগঞ্জের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন বলেন, বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ, নিজস্ব জায়গায় অবকাঠামো নির্মাণ এবং দক্ষ শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দক্ষ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি অচিরেই অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শতভাগ অকৃতকার্যতার কারণ কী- শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা, নাকি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব 























