বাকেরগঞ্জে কারখানা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সরেজমিনে নদী পরিদর্শন ও নাব্যতা যাচাই করেছে চীনা কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল। প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে নদীর নাব্যতা, নৌযান চলাচল এবং সেতুর প্রয়োজনীয় উচ্চতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও চীনা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিসি রোডের কবাই ও ফরিদপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কারখানা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় নদীর গভীরতা, নৌযান চলাচলের উপযোগিতা এবং ভবিষ্যতে নৌপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা ও নির্মাণ কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিয়া এমদাদ আলী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে কারখানা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চীনা কোম্পানির মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের দাবিতে নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে স্লোগান দেন। তাদের একটাই দাবি—“আর কোনো দাবি নাই, কারখানা নদীর ওপর ব্রিজ চাই।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সেতুটি নির্মিত হলে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। দুর্গাপাশা, ফরিদপুর, বাউফল, ভোলা, পটুয়াখালী ও দশমিনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাকেরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের সহযোগিতায় কারখানা নদীর ওপর পুনরায় সেতু নির্মাণের যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন তারা, সেটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাকেরগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু দ্রুত বাস্তবায়িত হলে কারখানা নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং বদলে যাবে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্র।
মোঃ এনামুল হক 



















