১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিড়ালের মতো মিউ মিউ শব্দ: জলাতঙ্ক নয়, প্যানিক অ্যাটাক শিশুটির

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর পাঁচ বছরের এক শিশুর অস্বাভাবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিশুটিকে বিড়ালের মতো ‘মিউ মিউ’ শব্দ করতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শিশুটির এমন আচরণকে বিড়ালের আঁচড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নানা মন্তব্য করছেন। তবে শিশুটির অস্বাভাবিক আচরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানতে শিশু মুস্তারিন আদ্রিতার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে ইত্তেফাক ডিজিটাল। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ। মেয়ের যে সমস্যা হয়েছিল, চিকিৎসকরা সেটিকে প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এটি জলাতঙ্ক নয়।’

আদ্রিতার মা বলেন, ‘আমার মেয়ে গত দুই বছর ধরে ঠান্ডা ও অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছে। কুষ্টিয়ায় একজন চিকিৎসকের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে। ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমাদের ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, এটি জলাতঙ্ক নয়, মেয়ের প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। বর্তমানে সেই অনুযায়ীই তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার কাশি কিছুটা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাসায় দুটি পোষা বিড়াল ছিল। সেগুলো হঠাৎ করে চলে যাওয়ার পর মেয়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার প্যানিক অ্যাটাক হয় বলে আমরা মনে করছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ঘিরে ‘বিড়ালের আঁচড়’ দেওয়ার পর তার মিউ মিউ করে বিড়ালের মতো ডাকাডাকির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিড়ালটি অনেক আগেই মেয়েকে আঁচড় দিয়েছিল। তখন তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পোষা বিড়ালকেও ভ্যাকসিন দেওয়া ছিল।’

হাসপাতাল থেকে কবে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেয়ের বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট দেখে সবকিছু ভালো থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে পারেন।’

এদিকে এর আগে গত ২২ আগস্ট বিকেলে শিশুটির মধ্যে জলাতঙ্কের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছিলেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন। সে সময় তিনি জানান, শিশুটির ‘মিউ মিউ’ শব্দ করা বা অস্বাভাবিক আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আচরণ যে জলাতঙ্কের কারণে হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভয়, আতঙ্ক বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেও শিশুর মধ্যে এ ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সাবেক এমপি কারাগারেই ব্যবহার করছিলেন ফোন, মিলল কয়েক ডজন পর্নো ভিডিও

বিড়ালের মতো মিউ মিউ শব্দ: জলাতঙ্ক নয়, প্যানিক অ্যাটাক শিশুটির

Update Time : ০২:২১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর পাঁচ বছরের এক শিশুর অস্বাভাবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিশুটিকে বিড়ালের মতো ‘মিউ মিউ’ শব্দ করতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শিশুটির এমন আচরণকে বিড়ালের আঁচড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নানা মন্তব্য করছেন। তবে শিশুটির অস্বাভাবিক আচরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানতে শিশু মুস্তারিন আদ্রিতার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে ইত্তেফাক ডিজিটাল। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ। মেয়ের যে সমস্যা হয়েছিল, চিকিৎসকরা সেটিকে প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এটি জলাতঙ্ক নয়।’

আদ্রিতার মা বলেন, ‘আমার মেয়ে গত দুই বছর ধরে ঠান্ডা ও অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছে। কুষ্টিয়ায় একজন চিকিৎসকের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে। ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমাদের ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, এটি জলাতঙ্ক নয়, মেয়ের প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। বর্তমানে সেই অনুযায়ীই তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার কাশি কিছুটা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাসায় দুটি পোষা বিড়াল ছিল। সেগুলো হঠাৎ করে চলে যাওয়ার পর মেয়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার প্যানিক অ্যাটাক হয় বলে আমরা মনে করছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ঘিরে ‘বিড়ালের আঁচড়’ দেওয়ার পর তার মিউ মিউ করে বিড়ালের মতো ডাকাডাকির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিড়ালটি অনেক আগেই মেয়েকে আঁচড় দিয়েছিল। তখন তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পোষা বিড়ালকেও ভ্যাকসিন দেওয়া ছিল।’

হাসপাতাল থেকে কবে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেয়ের বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট দেখে সবকিছু ভালো থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে পারেন।’

এদিকে এর আগে গত ২২ আগস্ট বিকেলে শিশুটির মধ্যে জলাতঙ্কের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছিলেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন। সে সময় তিনি জানান, শিশুটির ‘মিউ মিউ’ শব্দ করা বা অস্বাভাবিক আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আচরণ যে জলাতঙ্কের কারণে হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভয়, আতঙ্ক বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেও শিশুর মধ্যে এ ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে।