২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি শত একর জমি, পানি নিষ্কাশন ও খাল খননের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

বাকেরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি হয়ে থাকা প্রায় একশ একর কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী করতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের রবিপুর গ্রামে অনাবাদি জমির পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী অংশ নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শাহআলম মৃধা, দীনেশ চন্দ্র মিস্ত্রি, কবির জোমাদ্দার, শহিদুল ইসলাম সরদার ও জলিল আকন সহ স্থানীয় কৃষকরা।

বক্তারা বলেন, রবিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় জমিগুলোতে নিয়মিত চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব জমির ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি খাল খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হলে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমিগুলো পুনরায় চাষাবাদের আওতায় এনে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। কৃষিজমি রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ সময় অনাবাদি জমিগুলোতে পুনরায় চাষাবাদের পরিবেশ তৈরি করতে সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকা প্রায় একশ একর জমি পুনরায় কৃষিকাজের আওতায় আসার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

বাকেরগঞ্জে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি শত একর জমি, পানি নিষ্কাশন ও খাল খননের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

Update Time : ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাকেরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি হয়ে থাকা প্রায় একশ একর কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী করতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের রবিপুর গ্রামে অনাবাদি জমির পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী অংশ নিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ শাহআলম মৃধা, দীনেশ চন্দ্র মিস্ত্রি, কবির জোমাদ্দার, শহিদুল ইসলাম সরদার ও জলিল আকন সহ স্থানীয় কৃষকরা।

বক্তারা বলেন, রবিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় জমিগুলোতে নিয়মিত চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব জমির ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি খাল খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হলে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমিগুলো পুনরায় চাষাবাদের আওতায় এনে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। কৃষিজমি রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ সময় অনাবাদি জমিগুলোতে পুনরায় চাষাবাদের পরিবেশ তৈরি করতে সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত খাল খনন ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকা প্রায় একশ একর জমি পুনরায় কৃষিকাজের আওতায় আসার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।