২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুপাতলীতে খাবারের বিল নিয়ে বিরোধ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং স্টেট এলাকায় খাবারের বিল ও পানি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি ভাতের হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীর কয়েকজন বন্ধু ওই হোটেলে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রুপাতলী হাউজিং স্টেট এলাকায় জমজম হাসপাতাল সংলগ্ন সালমান প্যালেস ভাতের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম রক্তিম কুমার দাস। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে রক্তিম কুমার দাস ওই হোটেলে নাস্তা করতে যান। নাস্তা শেষে বিল পরিশোধের সময় খাবারের দাম নিয়ে তার সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তার টেবিলে পানির গ্লাস না থাকায় তিনি জগ থেকে সরাসরি পানি পান করেন। এ সময় হোটেলের এক কর্মচারী তাকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

এরপর রক্তিম কুমার দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে হোটেলে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হোটেলের মালিক মো. রানা ও কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনাস্থলে পুলিশ
খবর পেয়ে বরিশাল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

তবে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গেও কয়েকজনের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের পরিচয় ও কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র যাচাই করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সংবাদ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

রুপাতলীতে খাবারের বিল নিয়ে বিরোধ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

Update Time : ১২:২০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং স্টেট এলাকায় খাবারের বিল ও পানি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি ভাতের হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীর কয়েকজন বন্ধু ওই হোটেলে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রুপাতলী হাউজিং স্টেট এলাকায় জমজম হাসপাতাল সংলগ্ন সালমান প্যালেস ভাতের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম রক্তিম কুমার দাস। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে রক্তিম কুমার দাস ওই হোটেলে নাস্তা করতে যান। নাস্তা শেষে বিল পরিশোধের সময় খাবারের দাম নিয়ে তার সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তার টেবিলে পানির গ্লাস না থাকায় তিনি জগ থেকে সরাসরি পানি পান করেন। এ সময় হোটেলের এক কর্মচারী তাকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

এরপর রক্তিম কুমার দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে হোটেলে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হোটেলের মালিক মো. রানা ও কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনাস্থলে পুলিশ
খবর পেয়ে বরিশাল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

তবে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গেও কয়েকজনের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের পরিচয় ও কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র যাচাই করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সংবাদ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।